Wednesday , 4 November 2026 |
  1. অনিয়ন ও দুর্নীতি
  2. অপরাধ
  3. অপরাধচিত্র বিশেষ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. কক্সবাজার
  8. কিশোরগঞ্জ
  9. কুড়িগ্রাম
  10. কুমিল্লা
  11. কুষ্টিয়া
  12. কৃষি ও প্রকৃতি
  13. ক্রীড়াঙ্গন
  14. খুলনা
  15. খেলাধুলা

টেকনাফে মাদক চালান নিয়ে বিরোধ: ২ জনের মরদেহ উদ্ধার

প্রতিবেদক
Newsdesk
November 4, 2026 7:10 pm

এহসান উল্লাহ ও আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ হুবাইব, টেকনাফ থেকে : কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকের চালান ছিনতাই ও বিরোধে চারজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এতে মোক্তার কামাল (৪৮) ও আলী আকবর প্রকাশ আব্বুয়া (৩০) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী বন বিট অফিস সংলগ্ন ভিলেজার পাড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে সকাল অনুমান সাড়ে ৯ টার দিকে মোক্তার কামালের মরদেহ এবং দুপুর ১টার দিকে একই ইউনিয়নের লেচুয়াপ্রাং পাহাড়ি জঙ্গল থেকে আলী আকবরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মোক্তার কামাল হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আমতলী এলাকার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে, আলী আকবর প্রকাশ আব্বুয়া হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আমতলী এলাকার কালু ফকিরের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে পানখালী বন বিট অফিস সংলগ্ন ভিলেজার পাড়া এলাকায় কয়েকজনকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাঁদের উদ্ধার করতে গিয়ে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এ সময় হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তুলাতলী এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে ইলিয়াস (৩৫) ও একই এলাকার মৃত আমির হোছনের ছেলে আলী আহমদ (৪০)কে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আহত ইলিয়াসের দাবি, ৮ জন মিলে মাদকের একটি চালান চেকপোস্ট পার করে হোয়াইক্যংয়ের দৈংগ্যাকাটা পাহাড়ে অন্য একটি গ্রুপের কাছে হস্তান্তরের পথে ডাকাত দলের সদস্যরা ছিনিয়ে নেয়।

চালানটিতে আনুমানিক ১০ কাট (এক লাখ পিস) মাদক ছিল। পরে ছিনিয়ে নেওয়া চালানের ৭ কাট (৭০ হাজার পিস) মাদক উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি ৩ কাট (৩০ হাজার পিস) মাদকের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। উদ্ধার না হওয়া মাদক আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত বলে জানান তিনি।

ইলিয়াস আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে হোয়াইক্যংয়ের তুলাতলী এলাকার মিজান সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাতে বিচারের কথা বলে তাঁদের চারজনকে হ্নীলার একটি গ্রুপের হাতে তুলে দেন। পরে ওই গ্রুপের সদস্যরা তাঁদের পাহাড়ে নিয়ে ব্যাপক মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করেন। নির্যাতনকারীদের হাতে অস্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

ইলিয়াসের দাবি, নির্যাতনে গুরুতর আহত হয়ে মোক্তার কামালের মৃত্যু হয়। পরে তিনি ও আলী আহমদ আহত অবস্থায় উদ্ধার হন। তাঁদের সঙ্গে থাকা অপর ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে দুপুরে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহও উদ্ধার করা হয়।


মাদকের চালানটির মালিক হ্নীলার এক মাদক কারবারি বলেও দাবি করেন ইলিয়াস। হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি ইয়াবা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী এলাকা থেকে একজনের এবং লেচুয়াপ্রাং পাহাড়ি জঙ্গল থেকে আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

একই ঘটনায় আহত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদকের চালান আত্মসাৎ ও পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি ।

সর্বশেষ - জেলার খবর

আপনার জন্য নির্বাচিত