মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি, (পটুয়াখালী):
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর মোসা. ইসরাত জাহান যুথি (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ২ নম্বর মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘটকের আন্দুয়া (মাছুয়াখালী) গ্রামে নিজ বাড়ির দক্ষিণ পাশে একটি নির্জন বাগানের পানের বরজসংলগ্ন শুকনো ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত যুথি ওই গ্রামের মো. জামাল হাওলাদারের মেয়ে এবং সুবিদখালী র. ই. পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় যুথি। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তার মা বিদ্যালয়ে গিয়ে খোঁজ নিলে জানতে পারেন, সেদিন যুথি বিদ্যালয়ে যায়নি এবং পরীক্ষায়ও অংশ নেয়নি।
আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মির্জাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। এরপর থেকেই নিখোঁজ মেয়েটির সন্ধানে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল স্বজনদের।

বাড়ির পাশেই মিলল নিথর দেহ
নিহতের বাবা মো. জামাল হাওলাদারের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিখোঁজের পর বাড়ির পাশের এক নারী যুথির জুতা দেখতে পান। বৃহস্পতিবার সকালে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে মেয়ের জুতা পাওয়ার স্থানটি শনাক্ত করতে যান তিনি। একপর্যায়ে পানের বরজসংলগ্ন শুকনো ডোবায় মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।
বাবার চোখের সামনে মেয়ের এমন নিথর দেহ! মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে পরিবারটি। স্থানীয়দের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে শোক ও ক্ষোভ। মরদেহের পাশ থেকে যুথির এডমিট কার্ডসহ বিভিন্ন কাগজপত্র ও ফাইল পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য, তদন্তে পুলিশ
যুথির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, সে কি হত্যার শিকার, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে—এমন নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একটি পরিবারের স্বপ্ন নিভে গেল, জবাব চান এলাকাবাসী
যে মেয়েটির সামনে ছিল পড়াশোনা, স্বপ্ন আর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যাশা, তার এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও এলাকাবাসী। বাবা-মায়ের বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
এলাকাবাসী ও স্বজনদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে। যদি এটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তাহলে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একটি পরিবারের বুক খালি করে দেওয়া এই মৃত্যু যেন অন্ধকারেই চাপা পড়ে না যায়। প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হোক, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক—এটাই এখন শোকাহত পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।


















