অপরাধচিত ডেস্ক: সাটুরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে পদে যোগদানের পর থেকেই অফিসে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের ৬ জুন সাটুরিয়ায় যোগদানের পর থেকেই তিনি অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এক অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অভিযোগ, শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির জাকির হোসেন অফিস না করায় বিদ্যালয়ের সব ধরনের সরকারি আদেশ-নির্দেশ সময়মতো জানতে পারছেন না তারা। এর ফলে বিদ্যালয়ের কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, ফকির জাকির হোসেন ২০২৩ সালের ৬ জুন সাটুরিয়া উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।
যোগদানের পর থেকে তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অফিসে আসেন না। ফলে ১৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তিনটি কলেজের তথ্য আদান-প্রদানে ব্যাঘাত ঘটে। তিন বছরে তিনি তিন মাস অফিস করেছেন কি না তা বলতে পারেন না শিক্ষকরা।
এদিকে উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা ও সমন্বয় সভায় তিন বছরে তিন মাসের উপস্থিতির গড় হাজিরা পাওয়া যায়নি বলে জানান উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু রাহাত।
এই শিক্ষা কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির কারণে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। একজন একাডেমিক সুপারভাইজর দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কাজ চলছে।
সাটুরিয়া উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, তিন বছরে এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রসহ অনেক নথিপত্রে শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর দরকার হয়। এ ছাড়া কেন্দ্র কিভাবে হবে, সে বিষয়ে আলোচনার দরকার পড়ে। এ ছাড়া সরকারি তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে পরামর্শ করতে হয়।
সেটা করতে পারছেন না তারা। ফলে তাদের কাজে বিঘ্ন ঘটছে। শিক্ষা কর্মকর্তার বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানান, তিন বছরে ১৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩টি কলেজের এবং দাখিল মাদরাসার রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণসহ যাবতীয় কাজের জন্য তার ঢাকার বাসায় গিয়ে স্বাক্ষর আনতে হয়। এমনকি ঢাকায় বসেই তিনি অনলাইনে কাজকর্ম করে দিয়ে থাকেন।
প্রধান শিক্ষকদের দাবি, শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে কোনো সভাও করেননি। এমনকি কখন কী সরকারি নির্দেশনা আসে তা-ও সঠিক সময়ে জানতে পারেন না তারা। বর্তমানে শিক্ষা অফিস চালাচ্ছেন একজন একাডেমিক সুপারভাইজর।
সাটুরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির জাকির হোসেনের ভাষ্য– তার হার্টের সমস্যা, কিডনি ও লিভারের সমস্যা। এসব রোগ নিয়ে ভারতে চিকিৎসা করে এসেছেন। শারীরিক বিভিন্ন রোগের জটিলতার কারণেই অফিসে ঠিকমতো যাওয়া হয় না। শরীর যখন ভালো থাকে তখন তিনি অফিস করেন। তবে তিনি দাবি করেন, শিক্ষা অফিসের সব ধরনের কাজকর্ম এখন অনলাইনে হয়ে থাকে। বাসায় বসেই শিক্ষকদের সব কাজ করে দেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকার কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। তবে তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের কথা জানিয়েছেন। তাঁর অফিস না করার অনীহার কারণে শিক্ষার মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















