আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ হুবাইব টেকনাফ : কক্সবাজারের টেকনাফে ফের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এবার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জড়ো হয়ে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে হ্নীলা বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সন্ধ্যার দিকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হন। একপর্যায়ে সেখানে ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলটি টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকীর বাড়ির কাছাকাছি এলাকায়।
তবে বিএনপি নেতা হাসান সিদ্দিকী এ দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ঘটনাস্থল তাঁর বাড়ির পাশে নয়। তাঁর অভিযোগ, যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় কিছু লোকজনকে নিয়ে একটি বাউন্ডারির ভেতরে স্লোগান দেওয়া হয়েছে।
হাসান সিদ্দিকীর দাবি, তিনি আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ কারণে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পাশাপাশি দলের কিছু লোকজনও তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।
স্থানীয় এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দিনের বেলায় কয়েকজনকে প্রকাশ্যে মিছিলের প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়। পরে সন্ধ্যার দিকে তারা একটি স্থানে জড়ো হয়ে স্লোগান দেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের স্লোগানের বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যায়। তবে ততক্ষণে সেখানে কেউ ছিল না। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কয়েক দিনের ব্যবধানে ফের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান
এর আগে কয়েক দিন আগে একই হ্নীলা ইউনিয়নের ফুলের ডেইল এলাকায় একটি বনভোজনে অংশ নেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান সিদ্দিকী। বনভোজন শেষে আয়োজকদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল করার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়।
এর কয়েক দিনের ব্যবধানে একই ইউনিয়নের লেদা এলাকায় আবারও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের জমায়েত ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—ঘটনার নেপথ্যে কারা, আর কেনই বা একই এলাকায় বারবার এমন ঘটনা ঘটছে?
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন স্থানীয়রা।
















