পটুয়াখালী প্রতিনিধি :
পটুয়াখালীতে গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর ফলে উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝড়ো বা দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা বহাল রেখেছে আবহাওয়া অফিস। মাছধরা ট্রলার সমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, পটুয়াখালীতে ছয়দিন ধরে মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলায় ৮২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।
টানা বৃষ্টিতে জেলার নিচু স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের অনেক সড়কে পানি জমেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মৎস্য ও সবজি চাষিরা। অতি বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবি মানুষ। বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করায় উত্তাল রয়েছে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকা দিয়ে আজও ঝড়ো বা দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই পটুয়াখালীর পায়রা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রাখতে বলা হয়েছে। সব মাছধরা ট্রলার সমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমির মারা গ্রামের কৃষক সুলতান গাজী বলেন, “আমরা অনেকেই বর্ষাকালীন করোলা, ঢেঁড়শ ও শসাসহ নানা সবজি চাষ করেছি। এখন কেবল গাছগুলো বেড়ে উঠছে। এ অবস্থায় আরো বৃষ্টিপাত হলে গাছে পচন ধরবে।”
মহিপুরের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ইয়াসিন সিকদার বলেন, “আমাদের এলাকায় গত ছয়দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে যাত্রী সংখ্যা খুবই কম। আয় অনেকটা কমেছে। গাড়ি ভাড়ার টাকা উঠানোই অনেকটা দায় হয়ে পড়েছে।”
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, উপকূলে আরো বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং সেইসঙ্গে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয় যেতে পারে। কোথাও কোথাও জলবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।
















