Monday , 26 October 2026 |
  1. অনিয়ন ও দুর্নীতি
  2. অপরাধ
  3. অপরাধচিত্র বিশেষ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. কক্সবাজার
  8. কিশোরগঞ্জ
  9. কুড়িগ্রাম
  10. কুমিল্লা
  11. কুষ্টিয়া
  12. কৃষি ও প্রকৃতি
  13. ক্রীড়াঙ্গন
  14. খুলনা
  15. খেলাধুলা

সাতক্ষীরার টিকেটে মাদক কারবার, চুরি-ডাকাতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ: আতঙ্কে এলাকাবাসী

প্রতিবেদক
Newsdesk
October 26, 2026 8:33 am

আবদুল্লা আল মামুন সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা: জেলার দেবহাটা উপজেলার টিকেট এলাকায় মাদক কারবার, চুরি-ডাকাতি, মৎস্যঘের লুটপাট, চাঁদাবাজি ও জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘাতের একাধিক অভিযোগ উঠেছে ইব্রাহিম মোল্লা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, দিনের বেলায় চায়ের ব্যবসা এবং রাতের আঁধারে কথিত মাদক কারবারের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। এসব অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা, অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই প্রয়োজন।

চায়ের ব্যবসার আড়ালে মাদক কারবারের অভিযোগ:

স্থানীয় সূত্রের দাবি, দেবহাটা উপজেলার টিকেট এলাকার মৃত ফকির আহমদ মোল্লার ছেলে ইব্রাহিম মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে চায়ের ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় ও বহিরাগত কয়েকজনের একটি চক্র কাজ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া জমি ও খাল দখল, মৎস্যঘেরের মালিকদের কাছে চাঁদা দাবি, ঘের লুটপাট, চাঁদা না পেলে ঘেরে বিষ প্রয়োগ, গরু-ছাগল চুরি এবং বাড়িঘরে চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে ইব্রাহিম মোল্লা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের কয়েকজনের দাবি, ইব্রাহিম মোল্লার স্ত্রী রাবেয়া খাতুনও খুচরা মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মাদক কারবারে অর্থ জোগানের অভিযোগ ভাইয়ের বিরুদ্ধে:

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইব্রাহিম মোল্লার ভাই আবদুল জলিল মোল্লা কথিত মাদক কারবারে অর্থ জোগান দেন। তিনি ফরিদপুর শহরে কোচিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক যোগাযোগ রয়েছে এবং তিনি তাঁদের দেখভাল করেন।

তবে আবদুল জলিল মোল্লা মাদক কারবারে অর্থায়ন করেন কিংবা কোচিং ব্যবসাকে অবৈধ কর্মকাণ্ডের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করেন—এমন দাবির পক্ষে কোনো আর্থিক নথি, প্রত্যক্ষ প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট তদন্তের তথ্য প্রতিবেদকের হাতে নেই। ফলে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

মৎস্যঘের লুটপাট ও চুরির অভিযোগে আরও যাঁদের নাম:

স্থানীয়দের অভিযোগে আবুল হোসেনের ছেলে আবদুল কাদের মোল্লা, ইব্রাহিম মোল্লা, তাঁর স্ত্রী রাবেয়া খাতুন এবং মৃত খায়রুল শেখের ছেলে হারুন শেখের নাম এসেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মৎস্যঘের লুটপাট, গবাদিপশু চুরি ও কথিত মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি বিষয়ে পৃথকভাবে যাচাই, অভিযুক্তদের বক্তব্য গ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

শামীম হত্যা মামলাকে ঘিরে আলোচনা

প্রতিবেদকের কাছে সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, দেবহাটা থানায় শামীম হত্যা মামলা হিসেবে উল্লেখ করা একটি মামলার নম্বর ৯ এবং তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২৬। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করা হলেও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, মামলাটির সঙ্গে ইব্রাহিম মোল্লা, হারুন শেখ ও আবদুল কাদের মোল্লার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে মামলার এজাহার, আসামিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের নথি যাচাই ছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অভিযোগে নাম থাকা এবং অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়।

জমি নিয়ে বিরোধ, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে টিকেট গ্রামের রেকসনা পারভীন দেবহাটা থানায় একটি অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ইব্রাহিম মোল্লা, তাঁর স্ত্রী রাবেয়া খাতুন, মৃত খায়রুল শেখের স্ত্রী বাচা খাতুন এবং ছেলে হারুন শেখের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী ছলেমান মিস্ত্রীকে গালিগালাজ, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ছলেমান মিস্ত্রীর বাড়ির সামনের সড়কে তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, চড় ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার পর সংশ্লিষ্ট পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।

এ ঘটনায় অভিযোগের কপি, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি এবং পুলিশের তদন্তের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

নারী নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ, প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত:

টিকেট এলাকার কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দা দাবি করেছেন, এলাকায় অতীতে একাধিক ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের অভিযোগ, কিছু নারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মৎস্যঘেরের বাসায় নিয়ে যৌন সহিংসতার শিকার করা হয়েছে। এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট মামলা, ভুক্তভোগীর বক্তব্য, চিকিৎসা বা তদন্তসংক্রান্ত নথি কিংবা আদালতের তথ্য এই প্রতিবেদনের জন্য যাচাই করা যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, এলাকার অনেক পুরুষ জীবিকার প্রয়োজনে বছরের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন। কেউ ইটভাটায় কাজ করেন, কেউ শহরে ভ্যান চালান। তাঁদের অনুপস্থিতিতে পরিবারের নারী সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় বলে জানান তাঁরা। এ পরিস্থিতিতে অপরাধের অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রভাবশালীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগ:

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, অভিযুক্তদের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের যোগাযোগ থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও অনেক সময় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।

তবে প্রশাসন বা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধের অভিযোগ ধামাচাপা দিয়েছেন—এমন দাবি নিশ্চিত করার মতো নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে দেবহাটা থানা পুলিশের বক্তব্য, আগের অভিযোগগুলোর তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা:

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইব্রাহিম মোল্লার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, প্রতিবেদকের ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। আবদুল জলিল মোল্লার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর বিষয়ে দেবহাটা থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর দাবি: অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক:

টিকেট এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মাদক কারবার, চুরি-ডাকাতি, জমি দখল কিংবা নারী নির্যাতনের মতো অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগাম অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে, প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এলাকাবাসীর দাবি অপক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি—টিকেট এলাকার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

সর্বশেষ - জেলার খবর

আপনার জন্য নির্বাচিত