আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
সুইজারল্যান্ডের অভিজাত স্কি রিসোর্ট ক্রাঁ-মন্তানায় নববর্ষ উদযাপনকালে একটি বারে ভয়াবহ আগুনে ৪০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগের অবস্থাই গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার ভোর রাতের দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম সুইজারল্যান্ডের ওই রিসোর্টে ‘লে কনস্টেলেশন’ নামের একটি বারে আগুন লাগে। শুরুতে ঘটনাটি বিস্ফোরণ বলে ধারণা করা হলেও পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি কোনো হামলা নয়, বরং দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনার সময় বারে উপস্থিত থাকা দুই ফরাসি নারী এমা ও আলবান ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএম টিভিকে জানান, বারের নিচতলার অংশে কাঠের ছাদের খুব কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়। তাদের ভাষায়, খুব দ্রুত আগুন ছাদজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কের মধ্যে তারা একটি সরু সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন উপরের তলাতেও পৌঁছে যায় বলে তারা জানান।
ইতালির সুইজারল্যান্ডে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জিয়ান লরেঞ্জো করনাদো স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী বারের ভেতরে আতশবাজি ফোটানোর ফলে আগুন ধরে যায়। তিনি জানান, নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে সেখানে বহু ইতালীয় নাগরিক জড়ো হয়েছেন, তবে কোনো ইতালীয় হতাহত হয়েছেন কি না সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সকালে ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলা হয় এবং বারের সামনে সাদা পর্দার আড়ালে ফরেনসিক তাবু স্থাপন করা হয়। ভ্যালাই ক্যান্টনের নিরাপত্তা প্রধান স্তেফান গাঞ্জার বলেন, প্রথম উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
পুলিশ প্রধান ফ্রেদেরিক গিসলার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঘটনায় আমরা সবাই গভীরভাবে শোকাহত। আমাদের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই গুরুতর এবং দুঃখজনকভাবে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আহতদের সিওঁ, লোজান, জেনেভা ও জুরিখের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মারাত্মকভাবে দগ্ধ মরদেহ শনাক্ত করতে সময় লাগবে বলেও জানানো হয়েছে।
ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সুইস পুলিশের তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা প্রায় ৪০ জন। স্থানীয় কৌঁসুলি বিআত্রিস পিলু জানান, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমরা এটিকে অগ্নিকাণ্ড হিসেবেই দেখছি, কোনো হামলার সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না।
















