নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের দুর্যোগপূর্ণ ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের পথে লড়াই করার একমাত্র প্রেরণার উৎস। তিনি রাজনীতিতে সততা, নিষ্ঠা এবং অঙ্গীকারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীতে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী তার বক্তব্যে বেগম জিয়াকে একটি পরিবারের মায়ের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, যেমন মায়ের উপস্থিতি সন্তানদের শক্তি জোগায়, তেমনি তিনি শত হুমকির মুখেও দেশ না ছেড়ে গোটা জাতির অভিভাবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি যা বলতেন তা-ই করার চেষ্টা করতেন এবং কখনও কোনো অসত্য ওয়াদা করেননি। খালেদা জিয়ার এই রাজনৈতিক আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
বেগম জিয়ার অসাম্প্রদায়িক মানসিকতার কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন এই দেশ হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও উপজাতি—সবার। তার আশ্রয়ে প্রতিটি ধর্মের মানুষ সবসময় নিরাপদ বোধ করত। পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে রিজভী আরও বলেন, বেগম জিয়া কখনও ধর্মীয় বিভেদ পছন্দ করতেন না এবং সব ধর্মের মানুষের প্রতি তার ছিল সমান মমতা।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ষড়যন্ত্র করে তিলে তিলে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। রিজভী উল্লেখ করেন, প্রতিপক্ষের শত বিদ্রুপ ও কটু কথার মুখেও খালেদা জিয়া কখনও পাল্টা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেননি, যা তার চারিত্রিক ও সাংস্কৃতিক উচ্চতা বজায় রেখেছিল।
শোকসভার শেষ পর্যায়ে রিজভী প্রয়াত এই নেত্রীর আত্মার শান্তি কামনা করেন। তিনি বলেন, বেগম জিয়া কোটি মানুষের হৃদয়ে যে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন, তা কেউ কখনও মুছে ফেলতে পারবে না। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
















