নিজস্ব প্রতিবেদক :
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আলোচনায় আসতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (১৪ মার্চ) সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে আলোচনা কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে নয়, বরং সংসদের মূল অধিবেশনের ফ্লোরেই হতে পারে। এ সময় জামায়াত শপথ না নিলে রাজপথে নামার যে ঘোষণা দিয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং বলেন, এ বিষয়ে তাদের কাছেই জানতে হবে।
তিনি আরও জানান, কার্য উপদেষ্টা কমিটির আজকের বৈঠক ছিল প্রথম। বৈঠকে সংসদের প্রথম অধিবেশনের সময়সূচি, আলোচ্য বিষয়, সম্ভাব্য আইন উত্থাপন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর কত সময় আলোচনা হবে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫ মার্চ সকাল ১১টায় অধিবেশন মুলতবি হবে। এরপর ১৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত বিরতির পর ২৯ মার্চ আবার অধিবেশন শুরু হবে। এপ্রিল মাসজুড়েই সংসদের অধিবেশন চলবে বলে জানান তিনি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে সংসদে আলোচনার জন্য গত বৃহস্পতিবার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠনের আগে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। আইনমন্ত্রী শিগগিরই এ বিষয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। এরপর অধ্যাদেশগুলো ওই বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হবে এবং সেখানে যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিবেদন আকারে তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে। চলতি অধিবেশনেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে জামায়াতের আন্দোলনের ঘোষণার বিষয়ে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে বিএনপি কী অবস্থান নেয় তা সংসদেই তুলে ধরা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সব ধরনের রাজনৈতিক আলোচনা ও সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত সংসদ।
বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বিরোধী দল তাদের অবস্থান সংসদে তুলে ধরবে। তিনি বলেন, কেন তারা ওয়াকআউট করেছিলেন এবং কেন মনে করেছিলেন রাষ্ট্রপতির বক্তব্য দেওয়া অনুচিত এসব বিষয় তারা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করবেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ না দেওয়ার কারণও সংসদে তুলে ধরা হবে।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম জানান, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ে সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করবেন বিরোধী দলীয় নেতা। তিনি বলেন, গণভোটে যেহেতু সংস্কারের পক্ষে রায় এসেছে, তাই সংসদ অধিবেশনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলাদা অধিবেশন ডাকার কথা ছিল। সরকার দল আগে জানিয়েছিল, বিষয়টি সংসদেই আলোচনা হবে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে তারা সংসদে প্রশ্ন তুলবেন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল চায় দ্রুতই বর্তমান সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদে রূপ নিক, যাতে সংস্কার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।


















