নিজস্ব প্রতিবেদক :
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে নিপাত ও নির্মূল হয়েছে। দাফন হয়ে গেছে দিল্লিতে। সেই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে যেন আমরা কেউ ব্যবসা না করি। যারা জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক সংগঠন করে রাজনৈতিক খাতে ফায়দা নেওয়ার জন্য চেতনা বিক্রি করছে, তাদের পরিণতি কিন্তু ভবিষ্যতে দেখা যাবে। যারা ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করত, তারা চেতনা বিক্রি করতে করতে আজকে দিল্লি যেয়ে বসে আছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বাংলাদেশ রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা ৫ আগস্ট বিজয় অর্জন করেছি। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে যদি হিসাব করা হয়, তাহলে শহীদদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ১ হাজার ৪০০ জন নিহতের কথা উল্লেখ থাকলেও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও জরিপে ৭০০ থেকে ৮০০ জনের তথ্য পাওয়া যায়। অনেক শহীদের তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক শহীদের হাসপাতালের নথিপত্র পর্যন্ত গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। অনেককে ওয়ারিশবিহীন লাশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে। আজও অনেক পরিবার তাদের স্বজনের কবরের সন্ধান জানে না।
তিনি অভিযোগ করেন, এত বড় গণহত্যার পরও শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। বরং তারা জুলাই যোদ্ধাদের অপরাধী হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে, বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদের রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে নিপাত ও নির্মূল হয়েছে। দাফন হয়ে গেছে দিল্লিতে। সেই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি আমরা করেছি, জনগণও করেছে। তদন্ত এগিয়ে চলছে। ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের কাঠগড়ায় নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের বিচার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত আইনি কাঠামোতে রাজনৈতিক দলের বিচার করার বিধান রয়েছে। তাই সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।
বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত পাঁচটি হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ইতোমধ্যে হয়েছে। আরও ২৭টি মামলা বিচারাধীন এবং ৭২টি মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি জানান, শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যসহ কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে। গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলা, চানখারপুল হত্যা মামলা এবং রামপুরার একটি হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলার রায়ের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শহীদদের পরিবারের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে এবং সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

















