Monday , 13 July 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. প্রবাসের কথা
  14. বরিশাল
  15. বিনোদন

মাদক উদ্ধার নিয়ে বিতর্ক: এজাহার, সিসিটিভি ও সাক্ষ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ

প্রতিবেদক
Newsdesk
July 13, 2026 6:21 pm

# এজাহারে এক ঘটনা, সিসিটিভিতে আরেক চিত্র? কলমাকান্দার ট্যাপেন্টাডল মামলায় বাড়ছে প্রশ্ন
# কুরিয়ার অফিসের ভিডিও, কর্মীদের বক্তব্য ও পরিবারের অভিযোগে পুলিশের বর্ণনা নিয়ে বিতর্ক; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

জাহিদ হাসান, নেত্রকোণা থেকে :

একটি মাদক মামলা। উদ্ধার দেখানো হয়েছে ১ হাজার ৭০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট। পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে এক নারীর হাতে থাকা পার্সেল থেকে মাদক উদ্ধার করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু সেই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার কর্মীদের বক্তব্য, সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ এবং অভিযুক্তের পরিবারের অভিযোগ মিলিয়ে মামলার এজাহারে বর্ণিত ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নেত্রকোণার কলমাকান্দায় গত ১ জুলাই রাতে সংঘটিত এ ঘটনাকে ঘিরে এখন স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। পুলিশের এজাহার, কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মীদের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং পরিবারের অভিযোগ বিশ্লেষণে গ্রেপ্তারের স্থান, আলামত উদ্ধারের স্থান ও সময় এবং ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠে এসেছে।

এজাহারে পুলিশের দাবি
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলমাকান্দা পূর্ববাজারে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে রাবিয়া আক্তার (২৪) ও শামীম (২৮) নামে দুজনকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, রাবিয়ার হাতে থাকা একটি কুরিয়ার পার্সেল খুলে ১ হাজার ৭০০ পিস Tapentadol 100mg ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ: কুরিয়ার অফিস নয়, বাড়ি থেকেই আটক
ঘটনার পর ছোট শালজান গ্রামে রাবিয়া আক্তারের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্য রাবিয়া আক্তার ও তার ভাসুরের স্ত্রী মুক্তা, শাশুরীসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।
তাদের দাবি, ঘটনার রাতে এশার নামাজের অনেকটা পর কয়েকজন পুলিশ সদস্য সিভিল পোশাকে বাড়িতে যান। তখন বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য ছিলেন না। পরিবারের অভিযোগ, কোনো স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রতিবেশীকে সাক্ষী না রেখেই রাবিয়া আক্তার ও তার ভাসুরের স্ত্রী মুক্তা জা-কে জোরকরে বাড়ি থেকে থানা নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও পুলিশ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, যেখান থেকে পুলিশ মাদক উদ্ধারের দাবি করেছে, সেই কুরিয়ার সার্ভিসটি রাবিয়ার বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। তাদের দাবি, তাকে কুরিয়ার অফিস থেকে নয়, নিজ বাড়ি থেকেই আটক করা হয়।

কুরিয়ার কর্মীদের বক্তব্যে নতুন বিতর্ক
মামলার এজাহারে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের রাইডার মো. সোহাগ মিয়া এবং শাখা ব্যবস্থাপক মো. সজিব মিয়ার নাম। কিন্তু তাদের ভিডিও সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।
তাদের দাবি, রাবিয়া আক্তার কখনো কুরিয়ার অফিসে এসে পার্সেল গ্রহণ করেননি। বরং এস আই নোমান ও এ এস আই আলামীন নেতৃত্বে একদল পুলিশ রাতের সাড়ে ১১টার পরে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসে আসে এবং রাত প্রায় ১২টার দিকে অফিসের ভেতরেই পার্সেল খুলে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট গণনা করে। পরে কুরিয়ার অফিসে Tapentadol 100mg ট্যাবলেট’র পার্সেল নিতে আসা শামীম নামে একজনকে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের রাইডার মো. সোহাগ মিয়া এবং শাখা ব্যবস্থাপক মো. সজিব মিয়ার কক্ষে আটক করে ওই পার্সেলসহ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় সেখানে রাবিয়া আক্তার নামে কোনো নারী উপস্থিত ছিলেন না বলেও তারা (স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের রাইডার মো. সোহাগ মিয়া এবং শাখা ব্যবস্থাপক মো. সজিব মিয়ার) দাবি করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে কী দেখা যায়?

কুরিয়ার সার্ভিস থেকে সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অফিসের ভেতরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য, আটক শামীম এবং কুরিয়ার কর্মীরা একটি পার্সেল খুলে ট্যাবলেট গণনা করছেন।
তবে এই ভিডিও তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে আইনসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পুলিশের বক্তব্য এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকার বলেন, রাত আটটার দিকে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের সামনেই রাবিয়া আক্তারের হাতে থাকা পার্সেল থেকে ১ হাজার ৭০০ পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার করা হয় এবং পরদিন তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

আ্ইনজীবি মিজানুর রহমান বলেন, এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—
রাবিয়া আক্তারকে প্রকৃতপক্ষে কোথা থেকে আটক করা হয়েছিল—কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে, নাকি প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের নিজ বাড়ি থেকে? কুরিয়ার পার্সেলটি কোথায় খোলা হয়েছিল—রাস্তার পাশে, নাকি কুরিয়ার অফিসের ভেতরে? সিসিটিভি ফুটেজের সময় কি এজাহারে উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? এজাহারে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখিত ব্যক্তিদের বক্তব্য পুলিশের বর্ণনার সঙ্গে মিলছে না কেন?

স্থানীয়দের দাবি :
রাবিয়া আক্তারের আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, তিনি একজন নিরীহ ও সহজ-সরল গ্রামীণ নারী। তারা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যদি তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে তার দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করা উচিত। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তারা।

একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের স্থান, আলামত উদ্ধারের স্থান, সময় এবং সাক্ষীদের বক্তব্য—সবই বিচারিক প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কলমাকান্দার এই ঘটনায় পুলিশের এজাহার, কুরিয়ার কর্মীদের বক্তব্য, সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ এবং পরিবারের অভিযোগে যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে, তার উত্তর মিলবে কেবল একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও তথ্যপ্রমাণনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে। সেই তদন্তই নির্ধারণ করবে এজাহারে বর্ণিত ঘটনাপ্রবাহ বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল।

সর্বশেষ - রাজনীতি