Saturday , 1 August 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুমিল্লা
  9. কুষ্টিয়া
  10. ক্রীড়াঙ্গন
  11. খুলনা
  12. খেলাধুলা
  13. গাইবান্ধা
  14. গাজীপুর
  15. চট্রগ্রাম

​নগরকান্দায় ত্রাণ শাখার অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত দাবি

প্রতিবেদক
Newsdesk
August 1, 2026 6:06 pm

মিজানুর রহমান, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা ত্রাণ শাখায় কর্মরত অফিস সহকারী ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে স্বল্প সময়ে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়া, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কমিশন গ্রহণ এবং সরকারি বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস হোসেন বিগত প্রায় ছয় বছর ধরে নগরকান্দা উপজেলা ত্রাণ শাখায় অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি রাজবাড়ী জেলায় মাস্টাররোলে চাকরি করতেন। অভিযোগ রয়েছে, এই অল্প সময়ের ব্যবধানেই তিনি কোটি কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক বনে গেছেন।

​স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, চাকরি পাওয়ার আগে ইলিয়াস হোসেনের পারিবারিক অবস্থা খুবই সাধারণ ছিল। এমনকি তিনি একসময় বাবার লেপ-তোশকের দোকানে কাজ করতেন। কিন্তু সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরপরই তার আর্থিক অবস্থার রূপকথার মতো দ্রুত পরিবর্তন ঘটে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, নগরকান্দা পৌরসভার মধ্য জগদিয়া এলাকায় প্রায় ৮.৮০ শতাংশ জমি কিনে সেখানে তিনি একটি পাকা ভবন ও একাধিক টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছেন। জমি বিক্রেতাদের একজন, মিতুল হোসেন জানান, তাদের কাছ থেকে শতাংশপ্রতি প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দরে জমিটি কেনা হয়েছিল। স্থানীয় জমি ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে ঐ জমির বাজারমূল্য এক কোটি টাকারও বেশি।

​এছাড়া, গাং জগদিয়া মৌজার বিএস ৫২৫ নম্বর দাগের ৩ শতক জমি ২০২৫ সালের ১২ মে ইলিয়াস হোসেনের নামে নিবন্ধিত হয়। সরকারি দলিলে জমিটির মূল্য ৩১ লাখ ৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হলেও স্থানীয়দের দাবি—দুটি সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকার কাছাকাছি।

​উপজেলার কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী কমিশন সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। প্রতিটি প্রকল্প থেকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন আদায় করা হয়, যার একটি বড় অংশ পান এই অফিস সহকারী।

​এছাড়া, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় থেকে আসা দুর্যোগকালীন ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণেও বড় ধরনের কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য মতে, অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে শুধু টিন দেওয়া হলেও সরকারের নির্ধারিত নগদ অর্থ দেওয়া হয়নি; আবার কোথাও নগদ অর্থ পেলেও মেলেনি টিন। উপরন্তু, নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিজের নিকট আত্মীয় ও পরিচিতদের নামে সরকারি টিন বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

​উপজেলা প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরি করেও উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদের মালিক হতে পারিনি। কিন্তু একজন সাধারণ অফিস সহকারী এত অল্প সময়ে কীভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেন, তা গভীর তদন্তের দাবি রাখে।”

​বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদেরও অভিযোগ—উন্নয়ন প্রকল্পের স্ট্যাম্প ও নথিপত্রে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন নেওয়ার মাধ্যমেই ইলিয়াস হোসেন নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তারা সকলেই ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ আকস্মিক তদন্ত দাবি করেছেন।

​জিয়ার প্রকল্পের বরাদ্দ গোপনে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে কৃষ্ণা রানী নামের এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অফিস সহকারী ইলিয়াস ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

​এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহকারী ইলিয়াস হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সংক্ষেপে বলেন, “এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে পারব না।”

​অন্যদিকে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “এসব নিয়ে নানান জনে নানান কথা বলবেই। কাজ করতে গেলে এদিক-সেদিক একটু-আধটু অনিয়ম হতেই পারে।”

​ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুল হকের ব্যক্তিসংক্রান্ত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

​এদিকে সরকারি ত্রাণ তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা উদঘাটনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন নগরকান্দার সচেতন নাগরি সমাজ।

সর্বশেষ - রাজনীতি