অপরাধচিত্র ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে চায়।
২ আগস্ট রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠকে কোন কোন বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গরের এই সফর ছিল মূলত একটি অনুসন্ধানমূলক সফর। এটি ছিল তার প্রথম ঢাকা সফর।
তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে চায়।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আপনারা হয়তো বৈঠকগুলোর বিষয় দেখেছেন।
আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ম্যানিলায় গিয়েছিলাম। সেখানেও সার্জিও গরের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। পরে তিনি ঢাকায় এসে প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যেখানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। এরপর শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সব বৈঠকই আন্তরিক ও ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আগামী দশকে বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগত হাব হিসেবে দেখতে চায়। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, এটি ছিল প্রথম সফর। তাই বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সার্জিও গর সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। এ থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার বিষয়টি বোঝা যায়। আমাদের সম্পর্ক এখন নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বিস্তৃত অংশীদারিত্ব গড়ে উঠবে। বর্তমান মার্কিন প্রশাসন বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আরও শক্তিশালী ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় দেশ।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর সরকার একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সরকারের ভিত্তি জনগণ, আর সে কারণেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সম্মান অর্জন করছে। বেইজিং, ওয়াশিংটন, সৌদি আরব কিংবা রাশিয়া-সব জায়গাতেই বাংলাদেশ একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পৃক্ততা বজায় রাখছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটি একটি নতুন সূচনা এবং অত্যন্ত ইতিবাচক সূচনা। বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য এটি একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। “বাংলাদেশ ফার্স্ট” আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি। এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে। বরং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই আমরা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং বৈদেশিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নীতিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। উভয় ক্ষেত্রেই সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন।
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তার যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তার পেছনে তার নেতৃত্ব, ব্যক্তিত্ব, আন্তরিকতা, সহজ-সরল আচরণ এবং বিনয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং জনগণের সরকার হিসেবে সরকারকে পরিচালনা করতে চান।
শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা এখন একটি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। কেউ একজন সন্ত্রাসীকে নিয়ে কথা বলে না। বুঝতে পেরেছেন?

















