অপরাধচিত্র ডেস্ক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্যারিস রোডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত কয়েকজন ব্যক্তির ছবিসংবলিত একটি বিলবোর্ড টাঙানোকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের ওই বিলবোর্ডটি রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ‘নোভোকালচার’ স্থাপন করেছে।
এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ছাত্রসংগঠন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।
বিলবোর্ডটিতে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি স্থান পেয়েছে। তারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষে বিভিন্ন মামলায় দণ্ডিত হন এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘যেই এ ধরনের উদ্যোগ নিক না কেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কিংবা বাংলাদেশের কোথাও রাজাকারদের কোনো ধরনের স্বাভাবিকীকরণ (নরমালাইজেশন) আমরা মেনে নেব না।
যুদ্ধাপরাধের প্রশ্নটি বাংলাদেশের মৌলিক জাতীয় ইস্যু। ২০২৪ সালের আন্দোলন কিংবা শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধী মতাদর্শ বা তাদের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই।’
ছাত্র ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ কায়সার আহমেদ বলেন, ‘১৯৭১ সালে আলবদর ও রাজাকার বাহিনীর চিহ্নিত সদস্যদের আমরা ঘৃণাভরে স্মরণ করি। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে।
তাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শন করা গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘নোভোকালচারের প্রতিষ্ঠাতা রাকসুর সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় এখানে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নও উঠেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
তবে বিলবোর্ডটির সঙ্গে রাকসুর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন রাকসুর সহসভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি।
আমার ধারণা, বিলবোর্ডে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে এতে রাকসুর কোনো অর্থ বা সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই।’
অন্যদিকে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও নোভোকালচারের পরিচালক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “আমাদের বিলবোর্ডের মূল বিষয় ছিল ‘জুডিশিয়াল কিলিং’। অর্থাৎ রাজনৈতিক প্রভাবে পরিচালিত বিচার ও মৃত্যুদণ্ডের প্রশ্নটি তুলে ধরা হয়েছে।”
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, খুন, আয়নাঘর, শাপলা হত্যাকাণ্ড এবং বিচারব্যবস্থা নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটেই বিলবোর্ডটি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ কয়েকজনের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। উদ্দেশ্য কাউকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া নয়, বরং তাদের বিচার ও মৃত্যুদণ্ড রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ছিল কি না, সেই প্রশ্নটি সামনে আনা।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘তারা বিলবোর্ড টাঙানোর অনুমতি চেয়েছিল এবং প্রক্টর দপ্তর থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে কী ধরনের ছবি বা বিষয়বস্তু থাকবে, তা আমাদের জানা ছিল না। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনেছি। উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

















