Monday , 3 August 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুমিল্লা
  9. কুষ্টিয়া
  10. কৃষি ও প্রকৃতি
  11. ক্রীড়াঙ্গন
  12. খুলনা
  13. খেলাধুলা
  14. গাইবান্ধা
  15. গাজীপুর

ঢাকায় সাড়ে তিন বছরে ১,২৫৯ হত্যা, ছিনতাই দস্যুতায়ও উদ্বেগ

প্রতিবেদক
Newsdesk
August 3, 2026 9:54 am

অপরাধচিত্র ডেস্ক: রাজধানীতে হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সাড়ে তিন বছরে রাজধানীর ৫০ থানায় এক হাজার ২৫৯টি হত্যা মামলা হয়েছে।

একই সময়ে ছিনতাই ও দস্যুতার ঘটনায় মামলা হয়েছে এক হাজার ৪৩০টি। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর আটটি ক্রাইম জোনে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে অপরাধ পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তবে কিছু অপরাধীচক্র, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাং এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপরাধের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
ডিএমপির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাজধানীতে সংঘটিত অপরাধের বড় একটি অংশের পেছনে রয়েছে সামাজিক ও পারিবারিক বিরোধ। সর্বশেষ গতকাল রবিবার কলাবাগান এলাকায় নিজ বাসায় ফারজানা আক্তার রাত্রী ও তাঁর মা ফিরোজা বেগম হত্যার ঘটনায় হৃদয় ওরফে শিপন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যার পর শিপন থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকার বাসা থেকে সারা রোকসানা পিনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে পুলিশ জানায়, জানালার গ্রিল কেটে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে তাঁকে হত্যা করেছে। পরে এ ঘটনায় তাঁর স্বামী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থলে পাওয়া জুতার ছাপের সঙ্গে তাঁর জুতার মিল পাওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে শুধু পারিবারিক বিরোধ নয়, জামিনে থাকা অপরাধীদের ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন, তারিক সাইফ মামুন, ইয়াছিন খান ওরফে কাইল্লা পলাশসহ কয়েকজন হত্যার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে অপরাধীচক্রের তৎপরতা।
গত ২৪ জুলাই রাতে কাফরুল থানার ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে লিংক রোডের মাথায় যুবদলকর্মী ইউসুফ এবং ২১ জুলাই সবুজবাগ এলাকায় স্থানীয় বিএনপির কর্মী মো. পলাশ খুন হন। সবুজবাগ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন কারণে পলাশকে হত্যা করা হয়েছে।

ডিএমপির মাসিক অপরাধ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি ৫৬০টি হত্যা মামলা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে ১৬৪টি এবং ২০২৫ সালে ৪১৮টি হত্যা মামলা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত হত্যা মামলা হয়েছে ১১৭টি।

একই সময়ে ছিনতাই ও দস্যুতার ঘটনায় এক হাজার ৪৩০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ৫২৩টি, ২০২৪ সালে ৩৯৫টি, ২০২৩ সালে ৩৪৪টি এবং চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ১৬৮টি মামলা হয়েছে। ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৪৩টি। এ ছাড়া চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মাদক আইনে মামলা হয়েছে দুই হাজার ৯৩১টি। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে চার হাজার ৩৪০ জন।

ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর আটটি ক্রাইম জোনে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, মাদক কারবার, ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি এবং অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধে হত্যার ঘটনা ঘটছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আটটি ক্রাইম বিভাগের থানার ওসিদের আরো সতর্ক করা হয়েছে।

রাজধানীতে ছিনতাই নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ডিবির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আটটি ক্রাইম জোনে ৪৩২টি ছিনতাইয়ের স্পট রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আশপাশের এলাকায় ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেশি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, উত্তরা, মিরপুর, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, মতিঝিল, ওয়ারী, রমনা, লালবাগ ও গুলশান এলাকার বিভিন্ন স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগে পাঁচ শতাধিক, মতিঝিল ও ওয়ারী বিভাগে ৩১৩ জন, রমনা ও লালবাগ বিভাগে ২৮৭ জন এবং উত্তরা ও গুলশান বিভাগে ৪৭৩ জন ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে বলে পুলিশের তথ্য।

আটটি ক্রাইম জোনের মধ্যে মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই এলাকায় মাদক, ছিনতাই, প্রকাশ্যে হত্যা এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে। গত ১২ এপ্রিল দুই কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষে অ্যালেক্স গ্রুপের নেতা মো. ইমন ওরফে অ্যালেক্স ইমন নিহত হন। এর চার দিনের মাথায় একই এলাকায় আরেক যুবক হত্যার শিকার হন।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনাও মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মতিঝিলে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে বৈদেশিক মুদ্রাসহ ১৭ হাজার ডলার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ১ মে রাতে মালিবাগ রেলগেট এলাকায় তিন পোশাক শ্রমিক করিমন, নবী ও রিফাতকে কুপিয়ে আহত করে ছিনতাইকারীরা। ৩০ এপ্রিল শাহবাগ শিশু পার্কের সামনে প্রবীণ দম্পতি জামাল উদ্দিন ও সামছুন্নাহার ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন। ১৪ মে শেরেবাংলানগর এলাকায় সাংবাদিক কাজী আল আমিনও ছিনতাইয়ের শিকার হন।

ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বোমা ও বোমাসদৃশ বস্তু ঘিরে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা পুলিশ তৎপর রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. উমর ফারুক বলেন, সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে অপরাধের প্রবণতা বাড়ে। হত্যা, মাদক ও ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে আরো সক্রিয় হতে হবে।

 

সর্বশেষ - রাজনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত