ফরিদপুর থেকে মিজানুর রহমান :
কাজ শুরু হয়নি, প্রকল্পের অগ্রগতিও দৃশ্যমান নয়। এর মধ্যেই উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তাও আবার টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা পড়ার দিনই।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ৮ নং ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালামের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ কাজ না করে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ব্যাংক হিসাবের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ সেপ্টেম্বর সরকারি বিলের মাধ্যমে ওই হিসাবে ১০ লাখ টাকা জমা হয়। একই দিন ট্রান্সফারের মাধ্যমে হিসাব থেকে পুরো ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্থ উত্তোলনের পরও ওই টাকার বিপরীতে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ শুরু হয়নি। ফলে কোন প্রকল্পে অর্থটি বরাদ্দ করা হয়েছে, কাজ শুরুর আগেই কেন পুরো টাকা উত্তোলন করা হলো এবং উত্তোলিত অর্থ কোথায় রাখা বা ব্যয় করা হয়েছে এসব প্রশ্ন উঠেছে।
ইউপি সদস্য জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চেয়ারম্যান থাকাকালে কাজী আবুল কালাম বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম করেছেন। তাঁর দাবি, ১%, টিআর, কাবিটা, কাবিখা ও এডিপিসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ কাজ না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে এসব পুরোনো অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জাকির হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁরা ভয়ে এসব বিষয়ে কথা বলতে পারেননি। বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য তাঁরা সংগ্রহ করেছিলেন। এর একটি অংশ প্রয়াত ইউপি সদস্য ওহেদের কাছে ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে কাজ না করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম বলেন, বরাদ্দের ১০ লক্ষ টাকা একাউন্টে জমা রয়েছে। এখনো সব ইউনিয়নে টাকা আসেনি। এটি উন্নয়ন সহায়তার বিশেষ বরাদ্দ। আমাকে ইউএনও বলেছেন, সব ইউনিয়নে টাকা এলে আপনারা সবাই একসঙ্গে কাজ করবেন। কিন্তু ডাঙ্গী ইউনিয়নের হিসাবে টাকা জমা পড়ার দিনই পুরো ১০ লাখ টাকা ট্রান্সফারের মাধ্যমে উত্তোলনের বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, উন্নয়নের টাকা কাজ না করে আত্মসাৎ করার সুযোগ নেই। আপনি যে ১০ লাখ টাকার কথা বলেছেন, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি জেনে দেখব। কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের নাম, অনুমোদন, কাজের অগ্রগতি এবং উত্তোলন করা অর্থের ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে কাজ শুরুর আগেই পুরো বরাদ্দের অর্থ উত্তোলনের কারণ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

















