নিজস্ব প্রতিবেদক :
মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়া অনেকে নানা অপরাধে জড়িত। পুলিশ বলছে, এমন কোনো অপরাধ নেই, যা রোহিঙ্গারা করছে না। এর মধ্যে হত্যা ও মাদকসহ অনেক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী আছেন দেড় হাজার রোহিঙ্গা।
তাদেরকে দেশীয় বন্দীদের সঙ্গে একত্রে কারাগারে রাখা হয়েছে। এতে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়ে অপরাধের বিস্তৃতি ঘটছে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গা বন্দীদের জন্য উখিয়ায় আলাদা কারাগার তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা অধিদপ্তর থেকে পাঠানো প্রস্তাব বিবেচনা করছে স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়। পৃথক কারাগার করার আগে রোহিঙ্গা বন্দীদের কারাগারে পৃথকভাবে কোথাও রাখা যায় কি না সে ব্যাপারেও ভাবছে কারা কর্তৃপক্ষ। একাধিক কারা কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা বন্দীদের সঙ্গে থেকে এদের বাসিন্দারা অপকর্ম শিখছে। তারা খুবই ভয়ংকর ও দুর্ধর্ষ।
পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদেরকে পৃথকভাবে রাখার পরিকল্পনা ও চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে পৃথক কারাগার করার প্রস্তাবনা স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় বিষয়টি বিবেচনা করছে, যোগ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইএনএইচসিআর)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ।
কক্সবাজারের উখিয়া এবং টেকনাফে ৩৩টি ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা আছেন। চাপ কমাতে এবং ঘিঞ্জি পরিবেশ এড়াতে সরকার নোয়াখালীর ভাসানচর দ্বীপে আরেকটি আবাসন প্রকল্প তৈরি করেছে, যেখানে ৩০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এএনএম সাজেদুর রহমান বলেছেন, খুন, ডাকাতি, মাদক-অস্ত্র কারবারসহ এমন কোনো অপরাধ নেই, যা রোহিঙ্গারা করে না।
কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারপের পেছনে রোহিঙ্গারা দায়ী। একাধিক দাতা সংস্থা চায় বন্দী রোহিঙ্গাদের জন্য পৃথক কারাগার।
কারা সূত্র মতে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কারা উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি-প্রিজন) কার্যালয় থেকে গত ১৯ মে পৃথক কারাগার নির্মাণের একটি সারসংক্ষেপ কারা মহাপরিদর্শকের কাছে অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডিআইজি (প্রিজন) মোহাম্মাদ ছগির মিয়া বলেন, দু’দেশের বন্দীরা এক সঙ্গে থাকলে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে অপরাধের যোগসূত্র তৈরি হতে পারে। এজন্য রোহিঙ্গা বন্দীদের পৃথক প্রিজনে রাখা হয়।
তিনি বলেন, এখন দেড় হাজার রোহিঙ্গা বন্দী রয়েছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত আবার অনেকের বিরুদ্ধে আদালতে বিচারকাজ চলছে। তাদের জন্য উখিয়া এলাকায় পৃথক কারাগার করার প্রস্তব করা হয়েছে।
স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা অনুবিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার তাদের জন্য পৃথক কারাগারের ব্যাপারে ভাবছে। এর সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ, জনবল, বাজেট অনেক কিছু সম্পৃক্ত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতিও দরকার। মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাব অনুমোদন পেলে পৃথক কারাগার করা হবে।
শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ১০৯ বছরের পুরোনো কক্সবাজার জেলা কারাগারে বন্দী ধারণ ক্ষমতা ৪০০ জন হলেও সেখানে গড়ে আড়াই থেকে তিন হাজার বন্দী থাকেন, যার প্রায় অর্ধেক রোহিঙ্গা।


















