Wednesday , 5 August 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুমিল্লা
  9. কুষ্টিয়া
  10. কৃষি ও প্রকৃতি
  11. ক্রীড়াঙ্গন
  12. খুলনা
  13. খেলাধুলা
  14. গাইবান্ধা
  15. গাজীপুর

প্রশাসনের ওপর হামলা চালিয়েও থামেনি যাদুকাটার অবৈধ বালু পাচার

প্রতিবেদক
Newsdesk
August 5, 2026 8:06 pm

নুরুল আমিন সিমান্ত প্রতিনিধি:  সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদী—একসময় যার স্বচ্ছ নীল পানি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও খনিজ বালুর জন্য দেশজুড়ে পরিচিত ছিল—সেই নদী এখন অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। গত কয়েক বছরে জাতীয়, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে এবং অনেক ক্ষেত্রে ইজারার বাইরের এলাকা থেকেও যান্ত্রিকভাবে বালু উত্তোলন চলছে। বিশেষ করে রাতের আধারে বালু উত্তোলন করে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা ও মাহিন্দ্রা পিকআপে করে পাচারের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর ফলে নদীর তীর ভাঙছে, বসতভিটা ও কৃষিজমি বিলীন হচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লাউড়েরগড় এলাকায় যাদুকাটা নদীর অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের ফলে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে এবং হুমকির মুখে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।      বালুখেকোরা অবৈধভাবে নদীর পাড় কাটতে কাটতে ঐতিহ্যবাহী শিমুল বাগানের একদম সন্নিকটে চলে গেছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে শিমুল বাগানের অস্তিত্ব। স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যেই ৩-৪টি শিমুল গাছ নদীর স্রোতের ধাক্কায় তলিয়ে গেছে। তারা আরও বলেন, এভাবে চলতে থাকলে খুব অচিরেই যাদুকাটা নদীর পানিতে হারিয়ে যাবে প্রতি বছর লাখো পর্যটককে নৈসর্গিক প্রশান্তি দেওয়া এই শিমুল বাগান; যা সরাসরি আঘাত হানবে দেশের পর্যটন খাত ও অর্থনীতিতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, এই প্রভাবশালী বালুখেকো সিন্ডিকেটের করাল গ্রাস থেকে রেহাই পাচ্ছে না যাদুকাটা নদীর পাড়ের দীর্ঘদিনের খেলার মাঠটিও। তারা এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে এই মাঠের বালুও গিলে খেতে, আর সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই রাতের আঁধারে মাঠের আশপাশ থেকে বালু উত্তোলন করে পাচার শুরু করেছে। স্থানীয়দের দাবি, এভাবে আর কিছুদিন বালু উত্তোলন ও পাচার চলতে থাকলে যাদুকাটা নদীপাড়ের দৃষ্টিনন্দন ও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ‘বারিক্কা টিলা’ (যেখান থেকে পর্যটকরা যাদুকাটার স্বচ্ছ নীল জলরাশি, আবছা মেঘে আচ্ছন্ন মেঘালয়ের সুউচ্চ পাহাড় ও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন) হুমকির মুখে পড়বে। ​অনুসন্ধানে জানা যায়, এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মূল হোতা হলো লাউড়েরগড়ের রাজমিনের ছেলে জাহাঙ্গীর (৪৫)—যে বাদাঘাট ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ও লাউড়েরগড় যাদুকাটা পাথর সমবায় সমিতির (অনিবন্ধিত সংগঠন) সভাপতি। অন্যজন বাদাঘাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাদাঘাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মোস্তফা মেম্বার। এছাড়া মোস্তফা মেম্বারের ছেলে ও মাফিয়া জাহাঙ্গীরের ভাতিজি জামাই মাইনুদ্দিন (২৭) এবং মোস্তফা মেম্বারের আরেক ছেলে সোহেল (৩৪) মূলত এই ৪ জনই সিন্ডিকেটের প্রধান চালক। তাদের তৈরি এই সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা হলেন: সিরাজের ছেলে সাজারুল (৩০), হান্নানের ছেলে হুমায়ুন (৩৩), রফিকুল (৫১, পিতা-অজ্ঞাত), আশেক আলীর ছেলে নজির (৩০), জালালের ছেলে খাইরুল (২৭), জালালের ছেলে সফিক (৪৩), জালাল মিয়ার ছেলে বজলু (৫০) এবং রমজানের ছেলে মনির স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, আরও একটি প্রভাবশালী বালুখেকো সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে যাদুকাটা নদী। বাদাঘাট ইউনিয়নের খাসতাল গ্রামের আওয়ামী যুবলীগ নেতা ড্রেজার মাসুক সর্দার, তার ম্যানেজার আবুল মিয়া এবং ড্রেজার জামালের নেতৃত্বে চলছে এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচার। গত ২৫ জুলাই শনিবার দুপুরে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারুখ আলম শান্তনুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল যাদুকাটা নদীর জামালের চরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত কয়েকটি ড্রেজার মেশিন ও একজনকে আটক করে। পরে আটককৃত ব্যক্তি ও ড্রেজার মেশিন নিয়ে যাওয়ার সময় খাসতাল গ্রামের যুবলীগ নেতা ‘ডেভিল’ ড্রেজার মাসুক সর্দার, তার ম্যানেজার আবুল হোসেন এবং ডালারপাড় গ্রামের ড্রেজার জামালসহ ২৫/৩০ জনের একটি দল অভিযানে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নৌ পুলিশ সদস্যদের ওপর অনবরত পাথর ছুড়তে থাকে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হলে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযানকারী দল একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে চলে আসে।স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খাসতাল গ্রামের যুবলীগ নেতা ড্রেজার মাসুক সর্দার, তার ম্যানেজার আবুল মিয়া ও ড্রেজার জামালের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।পরবর্তীতে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারুখ আলম শান্তনু নিজের আহত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “নৌ পুলিশ একটি ড্রেজার আটক করার পর কিছু লোক আমাদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করেছিল। তার আগেই আমরা চলে আসি। এ বিষয়ে নৌ পুলিশ বাদী হয়ে নিয়মিত মামলা করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।”​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লাউড়েরগড়ের একাধিক বাসিন্দা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারকারী সিন্ডিকেটের এই অপকর্ম দ্রুত বন্ধ করা না গেলে নদীভাঙন ও বর্ষার ভারী বর্ষণে সৃষ্ট প্লাবনে লাউড়েরগড়বাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। একই সাথে যাদুকাটা নদী ঘিরে গড়ে ওঠা পর্যটন খাত ধ্বংস হয়ে যাবে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সরাসরি জাতীয় অর্থনীতিতে।(এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সরকারি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।)

সর্বশেষ - রাজনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত