Wednesday , 5 August 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুমিল্লা
  9. কুষ্টিয়া
  10. কৃষি ও প্রকৃতি
  11. ক্রীড়াঙ্গন
  12. খুলনা
  13. খেলাধুলা
  14. গাইবান্ধা
  15. গাজীপুর

বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত জ্যাকেটে ফেন্সিডিল পাচার, গ্রেফতার ৪

প্রতিবেদক
Newsdesk
August 5, 2026 4:06 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর মহাখালী থেকে বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত জ্যাকেটের মাধ্যমে কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল পাচার চক্রের নারীসহ ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)। এ সময় তাদের থেকে ৩০৯ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করা হয়।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে ডিএনসি’র উপ-পরিচালক (বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়) মো. মেহেদী হাসান এই তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন- মো. নাসিরুল ইসলাম (৪৮), মো. ফাহিম আজাদ (২৭), মোছা. জুলেখা খাতুন (৩২) এবং মোছা. শারমিন খাতুন (৩২)। এসময় একটি ট্রাভেলস ব্যাগ ঠিক ১০৯ বোতল ভারতীয় কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল। অপর একটি ট্রাভেলস ব্যাগ হতে ১০০ বোতল ভারতীয় কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল।

এছাড়া, বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত দুটি জ্যাকেটের গোপন চেম্বার হতে ১০০ বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

ডিএনসি’র উপ-পরিচালক বলেন, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কয়েকজন মাদক কারবারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ন্যাশনাল ট্রাভেলস এবং দেশ ট্রাভেলস-এর দুটি যাত্রীবাহী বাসযোগে বিপুল পরিমাণ কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল ঢাকায় নিয়ে আসছে। তথ্যের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি টিম রাজধানীর বনানী থানাধীন মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় কস্তুরী রেস্টুরেন্টের সামনে অবস্থান গ্রহণ করে। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ন্যাশনাল ট্রাভেলস ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বাসটি থামিয়ে তিনজন সন্দেহভাজন যাত্রীকে আটক করা হয়। তাদের বহনকৃত ট্রাভেলস ব্যাগ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

মেহেদী হাসান বলেন, পরে দেশ ট্রাভেলস একই স্থানে পৌঁছালে বাসটি থামিয়ে জি-১ নম্বর আসনে বসা একজন যাত্রীকে আটক করা হয়। তার দেহে বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত একটি জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় তল্লাশি চালিয়ে জ্যাকেটের গোপন চেম্বার থেকে বাণিজ্যিক নাম ESKUF Syrup ও FAIRDYL Syrup-এর কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সংঘবদ্ধ এই সিন্ডিকেটটি গত ৩ থেকে ৪ বছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিয়মিত ফেন্সিডিল সরবরাহ করে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা মাদক পরিবহনের সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রাখত, একাধিক রুট ও একাধিক যাত্রীবাহী বাস ব্যবহার করত এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও লেনদেনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনক্রিপ্টেড অ্যাপস ব্যবহার করত।

তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারিরা মাদক পরিবহনের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত জ্যাকেট ব্যবহার করত। জ্যাকেটগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে শরীরের সঙ্গে সহজে বহন করা যায় এবং বাইরের দৃষ্টিতে তা সাধারণ পোশাক বলে মনে হয়। প্রতিটি জ্যাকেটের ভেতরে একাধিক গোপন চেম্বার ছিল, যেখানে ৫০ থেকে ৬০ বোতল পর্যন্ত ফেন্সিডিল বহন করা সম্ভব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়ানোর উদ্দেশ্যেই তারা এই অভিনব কৌশল গ্রহণ করেছিল। গ্রেফতারকৃতরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এসব নিষিদ্ধ মাদক সংগ্রহ করে বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাসযোগে ঢাকায় এনে স্থানীয় মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহ করত।

তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। পারস্পরিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত মাদক পাচার নেটওয়ার্ক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বনানী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সেই সঙ্গে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্য, অর্থদাতা, সরবরাহকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ডিএনসির গোয়েন্দা তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ - রাজনীতি