মিজানুর রহমান, ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে পরিবারের অজান্তে জামালপুরে নিয়ে গিয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা করে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার নানির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের ঈশ্বরদী গ্রামের বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান শেখ ও সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের চন্ডিবরদী গ্রামের সেলিনা বেগমের মেয়ে মরিয়ম (১৩) মুকসুদপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। ছোটবেলা থেকেই সে মায়ের সঙ্গে সালথা উপজেলার চন্ডিবরদী গ্রামে নানাবাড়িতে বসবাস করে আসছে।
পরিবারের অভিযোগ, সেলিনা বেগম বিদেশে থাকাকালে মোবাইল ফোনে জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মন্ডলপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী জাকির নামে এক যুবকের সঙ্গে মরিয়মের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সম্পর্কের বিষয়ে মরিয়মের নানি কৈতরী বেগম সহযোগিতা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মরিয়মের মা সেলিনা বেগম বলেন, “আমি সম্প্রতি বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছি। গত ৪ আগস্ট আমি আমার বোনের বাড়িতে বেড়াতে গেলে সেই সুযোগে আমার মা কৈতরী বেগম আমার মেয়েকে বাড়ি থেকে জামালপুরে নিয়ে যান। পরে জানতে পারি, সেখানে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা করে জাকিরের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার মেয়ে নাবালিকা। এ ঘটনায় আমার মা দায়ী। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রায় ১৫ বছর আগে নগরকান্দা উপজেলার ঈশ্বরদী গ্রামের মোফাজ্জেল শেখের ছেলে মিজানুর রহমান শেখের সঙ্গে তার শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, তার স্বামী পূর্বে আরেকটি বিয়ে করেছিলেন এবং সেই ঘরে একটি সন্তান রয়েছে। তাদের সংসারেও একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধের কারণে তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর থেকে স্বামী তাদের খোঁজখবর নেননি এবং বিভিন্ন সময়ে মোবাইলে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তার ছবি বিকৃত করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।আরও বলেন যে ১২ বছর স্বামীর অপেক্ষায় থেকে কোন খোঁজ খবর না রাখায় চলতি বছর স্বামীকে একতরফা তালাক দিয়েছি।
মরিয়মের বাবা সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান শেখ বলেন, “আমাকে না জানিয়ে আমার নাবালিকা মেয়েকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশে ফিরে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
পরিবারের সদস্যদের দাবি, নানি কৈতরী বেগমের সহযোগিতায় মরিয়মকে বাড়ি থেকে বের করে জামালপুরে নিয়ে গিয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা সম্পন্ন করা হয়।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৈতরী বেগম কিংবা জাকিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া এ ঘটনায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
উল্লেখ্য, দেশের আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ের বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ।


















