অপরাধচিত্র প্রতিনিধি (গাজীপুর): গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সংস্কারের মাত্র ২ মাসের মাথায় সড়ক ভেঙে বড় খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এতে জীবনের ঝুঁকি ও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, যানবাহন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।
১০ আগস্ট সোমবার উপজেলার ব্যস্ততম সফিপুর-পাইকপাড়া সড়কের এমনই চিত্র দেখা গেছে।
কালিয়াকৈর এলজিইডি অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সফিপুর-পাইকপাড়া আঞ্চলিক সড়কটির সিনাবহ অংশে ২ হাজার ১০০ মিটার সংস্কারের কাজ পায় তন্ময় এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৪ হাজার টাকা। কিছুদিন আগেই সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষ। তবে, কাজের নিম্নমানের কারণে ২ মাস পার হতেই সড়কের মাঝখানে বড় ধরনের ধস নেমে বিপজ্জনক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গর্তটির ওপর গাছের ডালপালা ও লাল পতাকা পুঁতে সাময়িক সতর্কতা চিহ্ন দিয়ে রাখা হয়েছে।
প্রতিদিন বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ শত শত যানবাহন চলাচল করে সড়কটিতে। মাঝরাস্তায় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় একমুখীভাবে ধীরগতিতে গাড়ি পারাপার করতে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া, রাতের আঁধারে বা বৃষ্টি চলাকালীন সময় গর্তটি স্পষ্ট দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনেও বিলম্ব ঘটছে।
ভুক্তভোগী চালক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার কারণেই সড়কের এমন বেহাল দশা। সংস্কারের নামে সরকারের টাকা নষ্ট হলেও, তাদের দুর্ভোগ একটুও কমেনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে, সড়কটি নিরাপদ চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ও পথচারীরা।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মোশারফ হোসেন বলেন, ‘কাজ পাওয়ার পর আমি অন্য ঠিকাদারের কাছে কাজটি হস্তান্তর করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সড়কটি ভেঙে গেছে শুনেছি। আমি তাদেরকে জানিয়েছি, ভেঙে যাওয়া অংশটুকুর কাজ বিকেলের মধ্যেই শুরু করবে।’
কালিয়াকৈর উপজেলা (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. মাকছুদুন্নবী জানান, সড়কটি পরিদর্শন করা হয়েছে। অতি বর্ষণের ফলে সড়কটি দেবে গেছে। দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করা হবে।

















