বিশেষ প্রতিবেদক: রাজধানীর পল্টন এলাকায় ভুয়া সনদ ও পদবি ঝুলিয়ে ‘ক্যান্সার গবেষক’ সেজে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশের জেরে মো সবুজ হোসেন হাওলাদার নামের এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর- ৪৪৮) করেছেন ওই সংবাদকর্মী।
অভিযুক্ত প্রতারকের নাম মো. সারোয়ার আলম (৫৫)। তিনি পল্টনের বায়তুল ভিউ টাওয়ারের ‘গণস্বাস্থ্য হোমিও’ নামক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া চিকিৎসার নামে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে আসছেন।
জিডি সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৩ আগস্ট ‘ভুয়া সনদ ও পদবি ঝুলিয়ে প্রতারণা: ক্যান্সার গবেষক সারোয়ারের জালে নিঃস্ব রোগীরা’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সাংবাদিক মো. সবুজ হোসেন হাওলাদার। অনুসন্ধানী সেই সংবাদ প্রকাশের জেরে গত ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে পুরনো পল্টন এলাকায় অবস্থানকালে অভিযুক্ত সারোয়ার আলম তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে ওই সাংবাদিকের মোবাইলে কল দিয়ে ক্ষিপ্ত হন। এ সময় প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষোভে সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং সরাসরি মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা ডিগ্রি না থাকলেও সারোয়ার নিজেকে ‘এশিয়ার খ্যাতনামা ডাক্তার’, ‘জাতীয় পদক প্রাপ্ত’ ও ‘ক্যান্সার গবেষক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার তদন্তে তার এই ভুয়া পরিচয় ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই তার বিরুদ্ধে আইনগত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ পাঠিয়েছে।
হোমিও চিকিৎসার আড়ালে তিনি অসহায় রোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রতি রোগীর কাছ থেকে প্রথমে ৩৫ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ আইটেমের হোমিও ওষুধ গিলে খেতে বাধ্য করে আরও বড় অংকের টাকা আদায় করেন। এছাড়া তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারী কর্মীদের জিম্মি করা, বকেয়া বেতন চাওয়া নিয়ে নির্যাতন ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
প্রতারণার তথ্য ফাঁস হওয়ার পর অভিযুক্ত চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জিডি গ্রহণের পর ডিএমপির পল্টন থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে


















