অপরাধচিত্র প্রতিনিধি (ঠাকুরগাঁও): ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও দাবির বাস্তবায়ন ঘটল প্রস্তাবিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে। ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ভাতারমার ইক্ষু খামার এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক সুধী সমাবেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের আকাক্ষা ছিল জেলায় একটি জাতীয় পর্যায়ের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতায় সেই প্রত্যাশা পূরণের পথ সুগম হলো।
রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে পরম করুণাময় মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে বলেন, তার অশেষ রহমতে আজ ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ হতে যাচ্ছে। দ্রুততম সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদন এবং স্থান নির্ধারণে সরাসরি নির্দেশনার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত জমিটি শিল্প মন্ত্রণালয় ও ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া। সহযোগিতার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অতি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যান ও অবকাঠামোগত নকশা চূড়ান্ত করে মূল নির্মাণকাজ শুরু হবে। উচ্চশিক্ষার প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে।
তিনি স্থানীয় জনগণকে প্রতিষ্ঠানটির সুরক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকরা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করলে রাষ্ট্রপতি প্রথমে বলেন, আমি এখন রাজনীতির ঊর্ধ্বের পদে অধিষ্ঠিত, তাই রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দেব না। তবে দেশের বিরাজমান পরিবেশ প্রসঙ্গে আলোকপাত করে তিনি বলেন, আমরা আর সংঘাত কিংবা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চাই না। অনেক হয়েছে। এখন দেশের মানুষের একমাত্র চাওয়া সমঝোতা, গণতন্ত্র ও সহনশীলতার রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইসরাফিল শাহীন। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


















