Wednesday , 16 September 2026 |
  1. অনিয়ন ও দুর্নীতি
  2. অপরাধ
  3. অপরাধচিত্র বিশেষ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. কক্সবাজার
  8. কিশোরগঞ্জ
  9. কুড়িগ্রাম
  10. কুমিল্লা
  11. কুষ্টিয়া
  12. কৃষি ও প্রকৃতি
  13. ক্রীড়াঙ্গন
  14. খুলনা
  15. খেলাধুলা

পদোন্নতিতে ‘সাত প্রশংসাপত্র’, চট্টগ্রাম বন্দরে অনিয়মের অভিযোগ

প্রতিবেদক
Newsdesk
September 16, 2026 1:33 pm

অপরাধচিত্র রিপোর্ট: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ কর্মকর্তাকে উপ-ব্যবস্থাপক (এস্টেট) পদে পদোন্নতি দিতে একাধিক ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন’ বা প্রশংসাপত্রকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পদোন্নতিবঞ্চিত সহকারী ব্যবস্থাপক (ভূমি-১) মুহাম্মদ শিহাব উদ্দিন।
অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলেও তা নিষ্পত্তির পর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আপিল করেছেন শিহাব। সেই আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চেয়েছে মন্ত্রণালয়।

সাত প্রশংসাপত্রেই প্রশ্ন:

চলতি বছরের ২৮ জুন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে উপ-ব্যবস্থাপক (এস্টেট) পদে বিভাগীয় পদোন্নতি সভা হয়। সভার নথিতে ওই পদে দুজন উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে মুহাম্মদ শিহাব উদ্দিন ও মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়।
শেষ পর্যন্ত পদোন্নতি পান রায়হান উদ্দিন।

সভায় রায়হানের কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে সাতটি প্রশংসাপত্র বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি বন্দর চেয়ারম্যানের এবং দুটি সাবেক সদস্য (প্রকৌশল) কাওছার রশীদের দেওয়া বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
তবে এসব প্রশংসাপত্রের নথিগত বৈধতা ও সময়কাল নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে। সাতটির মধ্যে মাত্র একটিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের মেমো নম্বর রয়েছে। কয়েকটি চিঠিতে মেমো নম্বর নেই এবং একটি চিঠিতে তারিখও অনুপস্থিত বলে অভিযোগের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

যে কাজের কৃতিত্ব কার?

অনুসন্ধানে থাকা নথি অনুযায়ী, রায়হান উদ্দিনকে দেওয়া প্রশংসাপত্রের কয়েকটিতে বে-টার্মিনালের জমি, লালদিয়ার চর উচ্ছেদ, পানগাঁও আইসিটি এবং মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের কাজের কৃতিত্বের কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু অভিযোগকারী শিহাব উদ্দিনের দাবি, এসব কাজের কয়েকটির সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। বিশেষ করে বে-টার্মিনালের ৫০০ দশমিক ৭০১ একর সরকারি খাসজমি প্রতীকী মূল্যে বন্দরের নামে রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায়।

২০২৪ সালের ১৪ মে জেলা প্রশাসনকে দেওয়া প্রতীকী মূল্য পরিশোধের পে-অর্ডারসংক্রান্ত চিঠিতেও শিহাবের স্বাক্ষর রয়েছে। এর আগে জমি বন্দরের কাছে হস্তান্তরসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়াতেও তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়।

পুরোনো কাজের কৃতিত্ব নতুন করে:

রায়হান উদ্দিনকে দেওয়া একটি প্রশংসাপত্রে ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট লালদিয়ার চর এলাকার অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু অভিযোগের সঙ্গে থাকা নথি অনুযায়ী, লালদিয়ার চরে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল ২০২০ সালের মার্চে। ওই সময় বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্বে ছিলেন না।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের আগস্টের পর নতুন করে কিছু স্থাপনা গড়ে উঠলে সেগুলো উচ্ছেদের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় শিহাব উদ্দিনের ভূমিকা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
ফলে ২০২৫ সালে দেওয়া প্রশংসাপত্রে কোন কাজের ভিত্তিতে রায়হানকে কৃতিত্ব দেওয়া হলো—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী।

পানগাঁওয়ের চুক্তির আগেই প্রশংসাপত্র:

আরেকটি প্রশংসাপত্রে পানগাঁও আইসিটির জন্য বিআইডব্লিউটিএর কাছ থেকে কম মূল্যে জমি ইজারা নেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার কৃতিত্ব রায়হান উদ্দিনকে দেওয়া হয়।
কিন্তু নথিপত্রের সময়কাল পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সমঝোতা চুক্তি হয় ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। অথচ রায়হানকে এ কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হয় তার আগেই—২৭ আগস্ট।

এতে প্রশ্ন উঠেছে, চূড়ান্ত চুক্তির আগেই কীভাবে ওই কাজের সাফল্যের জন্য প্রশংসাপত্র দেওয়া হলো।
বিদেশে থাকার সময়ের কাজেরও কৃতিত্ব
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের একটি দরপত্র মূল্যায়নে বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয়ের অবদানের জন্যও রায়হান উদ্দিনকে প্রশংসাপত্র দেওয়া হয়।
কিন্তু সংশ্লিষ্ট দরপত্র মূল্যায়নের সময় রায়হান উদ্দিন বিদেশে উচ্চশিক্ষার ছুটিতে সুইডেনে ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওই দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের তালিকায় তার নাম ছিল না।
নথি অনুযায়ী, দরপত্র মূল্যায়নের সময় সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যেও তিনি ছিলেন না।

এ অবস্থায় বিদেশে অবস্থানরত একজন কর্মকর্তাকে ওই কাজের জন্য কী ভিত্তিতে প্রশংসাপত্র দেওয়া হলো, সেটিই এখন তদন্তের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জ্যেষ্ঠতা নিয়েও আপত্তি:

শিহাব উদ্দিনের মন্ত্রণালয়ে করা আপিলে বলা হয়েছে, তিনি ২০১৮ সালে মেধাতালিকায় প্রথম হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দেন। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে তাকে উপ-ব্যবস্থাপকের চলতি দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল।
তার দাবি, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পরও চলতি বছরের ২৮ জুন তাকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ রায়হান উদ্দিনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
আপিলে আরও দাবি করা হয়েছে, বিগত পাঁচ বছরে শিহাবের এসিআরের গড় নম্বর ছিল ৯৭ শতাংশ।

মন্ত্রণালয়ে এখন আপিল:

চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা ও চিফ পারসোনাল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, শিহাব উদ্দিনের অভিযোগ কর্তৃপক্ষের পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। পরে তিনি মন্ত্রণালয়ে আপিল করেছেন। মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া চিঠির যথাযথ দাপ্তরিক জবাব দেওয়া হবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও আপিল কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল বলেন, শিহাব উদ্দিনের আপিল তার কাছে এসেছে। এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য:

পদোন্নতি পাওয়া উপ-ব্যবস্থাপক মো. রায়হান উদ্দিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিবই এ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন।
বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। লিখিতভাবেও বক্তব্য চাওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

বন্দর সচিব ও মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিমও এ বিষয়ে পৃথক কোনো বক্তব্য না দিয়ে চেয়ারম্যানের জবাবের অপেক্ষা করতে বলেন।
অভিযোগকারী শিহাব উদ্দিনও গণমাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সর্বশেষ - জেলার খবর