Monday , 5 October 2026 |
  1. অনিয়ন ও দুর্নীতি
  2. অপরাধ
  3. অপরাধচিত্র বিশেষ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. কক্সবাজার
  8. কিশোরগঞ্জ
  9. কুড়িগ্রাম
  10. কুমিল্লা
  11. কুষ্টিয়া
  12. কৃষি ও প্রকৃতি
  13. ক্রীড়াঙ্গন
  14. খুলনা
  15. খেলাধুলা

বেনাপোলে সবুজ এলাচ চাষ : স্বপ্ন ছড়িয়েছেন কৃষক শাহজাহান

প্রতিবেদক
Newsdesk
October 5, 2026 2:47 pm

অপরাধচিত্র প্রতিনিধি (যশোর) : সাধারণত মসলা হিসেবে রান্নাঘরে পরিচিত এলাচ। কিন্তু সেই এলাচই এখন সম্ভাবনার নতুন গল্প লিখছে বেনাপোল পৌরসভার নারায়নপুর গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী। অনুকূল পরিবেশ, সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সমন্বয়ে তার এলাচ বাগানে দেখা দিয়েছে আশার আলো। নতুন এই ফসল দেখতে প্রতিদিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন আশপাশের কৃষক।
শাহজাহান আলী জানান, এলাচের আকাশছোঁয়া বাজারদর দেখে দেশে প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি ভিন্ন কিছু করার চিন্তা থেকেই তিনি সবুজ এলাচ চাষে আগ্রহী হন। ২০১২ সালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বুনো জাতের চারা সংগ্রহ করলেও সেগুলোতে কাঙ্ক্ষিত কোনো মসলা পাওয়া যায়নি। শুরুতে নানা ধরনের সংশয় থাকলেও গাছের বৃদ্ধি ও ফলনের সম্ভাবনা তাকে আশাবাদী করে তুলেছে। পরবর্তীতে আফ্রিকা অঞ্চলের তানজানিয়া বা মরিচানিয়া থেকে সংগৃহীত বিশেষ রেনুর মাধ্যমে আনা ছোট সবুজ জাতের এলাচের চারা রোপণ করেন। ২০১৬ সাল থেকে মূল প্রকল্প গড়ে তোলেন তিনি। তবে তার পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আমপানের প্রলয়ে তার পুরো এলাচ বাগান পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এতে তার ফলন ও অগ্রগতি কয়েক বছর পিছিয়ে যায়।

শাহজাহান দেশের প্রথম এলাচ চাষি

ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত কাটিয়ে ২০২০ সালের শেষভাগে নতুন করে আবার মেহগনি গাছের ছায়াযুক্ত বাগানে এলাচ রোপণ শুরু করেন শাহজাহান আলী। বর্তমানে তার বাগানের গাছগুলোর বয়স ছয় বছর পেরিয়েছে। গাছের গোড়া থেকে কচুর লতির মতো লম্বা থোকা বের হয়ে ফুল ফোটা শুরু করেছে এবং তাতে ছোট ছোট ফলের গুটিও বাঁধতে শুরু করেছে। এই গুটি বড় হয়ে পরিপক্ব হতে সময় নেয় প্রায় ১২০ দিন। তিনি আরও জানান, রোপণের দুই থেকে আড়াই বছর পর এলাচ গাছে ফুল আসার প্রাথমিক শক্তি তৈরি হয়। তৃতীয় বছরে সামান্য ফলন আসে এবং এরপর থেকে ফলন পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকে। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে শুকনা অবস্থায় বছরে দুইশত গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। গাছটি সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত ফলন দেওয়ার সক্ষমতা রাখে এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে উৎপাদন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়।

সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে ভবিষ্যতে এলাচ চাষ বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হতে পারে। এছাড়া কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে এ চাষ আরও বড় পরিসরে করা সম্ভব বলে জানান এই কৃষক। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলাচ চাষের জন্য দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী, বেলে মাটিতে এই গাছ একেবারেই টেকে না। গাছের বৃদ্ধির জন্য রোদ নয়, বরং শীতল ছায়াযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। কাঠজাতীয় বড় গাছের বাগানের নিচে পর্যাপ্ত বাতাস ও আলো প্রবেশের ফাঁকা জায়গা থাকলে এলাচ সবচেয়ে ভালো বাড়ে। কোনো কারণে প্রখর রোদ বা অতিরিক্ত গরম থাকলে ফুল ও লতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অব্যবহৃত ও ছায়াযুক্ত পতিত জমিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় এনে পরিকল্পিতভাবে সবুজ এলাচ চাষ করা গেলে মসলাটির আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো সম্ভব।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, এলাচ একটি মসলা জাতীয় অর্থকরী ফসল। আমাদের দেশের কৃষিতে নতুন ও সম্ভাবনাময় ফসলের পরীক্ষামূলক চাষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাহজাহান আলীর বাগানটি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। মাটি, আবহাওয়া ও পরিচর্যার বিষয়গুলো বিবেচনা করে ফলন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। তিনি আরও বলেন, কৃষিতে বৈচিত্র্য আনা গেলে একদিকে যেমন নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হয়, অন্যদিকে কৃষকের প্রচলিত ফসলের ওপর নির্ভরশীলতাও কমে। ফলে শাহজাহান আলীর মতো কৃষকের নতুন ফসল নিয়ে উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলতে পারে।

সর্বশেষ - জেলার খবর

আপনার জন্য নির্বাচিত