Wednesday , 7 October 2026 |
  1. অনিয়ন ও দুর্নীতি
  2. অপরাধ
  3. অপরাধচিত্র বিশেষ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. কক্সবাজার
  8. কিশোরগঞ্জ
  9. কুড়িগ্রাম
  10. কুমিল্লা
  11. কুষ্টিয়া
  12. কৃষি ও প্রকৃতি
  13. ক্রীড়াঙ্গন
  14. খুলনা
  15. খেলাধুলা

করতোয়া বাঁচাতে হাজার কোটির প্রকল্প : সেই নদীতেই ফেলা হচ্ছে বগুড়া সিটি করপোরেশনের বর্জ্য

প্রতিবেদক
Newsdesk
October 7, 2026 2:59 pm

অপরাধচিত্র ডেস্ক: ট্রাক থেকে নামানো বর্জ্য যন্ত্রের সাহায্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে নদীর দিকে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এভাবেই বর্জ্য ফেলার কাজ চলে সদর উপজেলার বাঘোপাড়ায় করতোয়া নদীর তীরে। বগুড়া সিটি করপোরেশনের ২৪টি ট্রাকে করে প্রতিদিন প্রায় ২০০ টন বর্জ্য এখানে ফেলা হচ্ছে।
মৃতপ্রায় করতোয়া নদীর প্রাণ ফেরাতে যখন নেওয়া হয়েছে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, তখনই নদীতীরে সিটি করপোরেশনের এমন বর্জ্য ফেলার ঘটনায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নদীর তীরে বর্জ্য ফেলে একদিকে যেমন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করা হচ্ছে, অন্যদিকে দূষিত হচ্ছে করতোয়ার পানি ও নদীতীরের পরিবেশ।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাঘোপাড়ায় করতোয়া নদীর তীরজুড়ে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য স্তূপ করে রাখা। সিটি করপোরেশনের ট্রাকে করে আনা বর্জ্য নির্দিষ্ট কোনো আধুনিক ডাম্পিং ব্যবস্থাপনা ছাড়াই সেখানে ফেলা হচ্ছে। পরে এক্সকাভেটর দিয়ে বর্জ্য সরিয়ে নদীর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
এতে নদীতীরের পাশাপাশি নদীর পানিও দূষিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য আসায় সেখানে ময়লার স্তূপ ক্রমেই বড় হচ্ছে। বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দূষিত হচ্ছে আশপাশের পরিবেশও। বৃষ্টির সময় এসব বর্জ্য থেকে বের হওয়া দূষিত তরল নদীতে গিয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
পরিবেশবিদদের দাবি, নদী বা জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ২০২১ সালের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালায় বর্জ্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনা ও অপসারণের পাশাপাশি ডাম্পিংয়ের স্থান নির্বাচনে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, কিন্তু বগুড়ায় দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ও পরিবেশসম্মত ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় নদীর তীরই হয়ে উঠেছে বর্জ্য ফেলার অন্যতম স্থান।
এদিকে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এমন পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও সতর্ক করেছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর নদী দূষণের তালিকায় তখনকার বগুড়া পৌরসভাকে-বর্তমানে বগুড়া সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়। নদীদূষণ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হলেও পরিস্থিতির স্থায়ী পরিবর্তন হয়নি।
এব্যাপারে বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, ময়লা ফেলার কোনো জায়গা আমাদের নেই। নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন চালু করার
জন্য আমরা জায়গা খুঁজছি। ইতোমধ্যে দুই-তিনটি জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে জায়গা কিনে ময়লা সেখানে ফেলব।
বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ বলেন, ‘সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি ডাম্পিং জোন করতে হবে। আর ময়লা ফেলার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সচেতনভাবে বর্জ্য ফেললেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, করতোয়া নদীটির প্রাণ ফিরিয়ে আনতে চলতি বছরের ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এক হাজার ১১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নদীটিকে বগুড়ার ফুসফুস বলা হলেও দীর্ঘদিনের দখল, দূষণ, বর্জ্য ফেলা ও পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতার কারণে এ নদী এখন হুমকির মুখে।
নদীর পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নে যখন বিপুল অর্থের এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তখন সেই নদীর তীরেই সিটি করপোরেশনের প্রতিদিনের বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ফেলার দৃশ্যকে প্রকল্পের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবেশবিদদের মতে, শুধু নদী খনন বা অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই করতোয়া রক্ষা সম্ভব নয়। নদীতে বর্জ্য ও দূষিত পানিপড়া বন্ধের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান করতে হবে। অন্যথায় একদিকে নদী পুনরুদ্ধারে হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে, অন্যদিকে নিয়মিত বর্জ্য ফেলে সেই নদীর পরিবেশই আবার নষ্ট হবে।

সর্বশেষ - জেলার খবর