Friday , 30 October 2026 |
  1. অনিয়ন ও দুর্নীতি
  2. অপরাধ
  3. অপরাধচিত্র বিশেষ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. কক্সবাজার
  8. কিশোরগঞ্জ
  9. কুড়িগ্রাম
  10. কুমিল্লা
  11. কুষ্টিয়া
  12. কৃষি ও প্রকৃতি
  13. ক্রীড়াঙ্গন
  14. খুলনা
  15. খেলাধুলা

লাইসেন্স ছাড়া চলবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা, নিবন্ধনে নতুন নিয়ম

প্রতিবেদক
Newsdesk
October 30, 2026 12:33 pm

ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশনে কার্যকর  হচ্ছে ২০২৬ সালের বিধিমালা; নির্ধারিত রুট, জোন ও গতিসীমা মানা বাধ্য:

অপরাধচিত্র রিপোর্ট : রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। এখন থেকে নির্ধারিত নিয়মে নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়া এসব যানবাহন সড়কে চালানো যাবে না। একই সঙ্গে চালু হচ্ছে নির্দিষ্ট রুট জোনভিত্তিক চলাচল গতিসীমা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত একাধিক বিধিনিষেধ।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ প্রকাশ করে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ক্ষমতাবলে প্রণীত এ বিধিমালা দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রযোজ্য হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ই-রিকশা নিবন্ধনের জন্য মালিককে নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিটি নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।

নিবন্ধিত প্রতিটি রিকশার জন্য দেওয়া হবে পৃথক কিউআর কোডযুক্ত ইউনিক নিবন্ধন নম্বর ও নম্বর প্লেট। এসব নম্বর যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে, যাতে সহজেই নিবন্ধনের বৈধতা যাচাই করা যায়।

বিধিমালায় একজন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে যে সিটি করপোরেশন থেকে নিবন্ধন নেওয়া হবে, সেই এলাকার বাইরে অন্য সিটি করপোরেশনে বাণিজ্যিকভাবে যানটি চালানো যাবে না।

নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়েও কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য পূরণ, ফিটনেস সনদ এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর ছাড়া কোনো ই-রিকশার নিবন্ধন বা নবায়ন করা যাবে না।

কর্তৃপক্ষ আবেদন বাতিল করলে সাত কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীকে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে। এ সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদেশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

চলাচলে থাকছে কঠোর নিয়ন্ত্রণ

নতুন বিধিমালায় ই-রিকশার চলাচল নির্দিষ্ট সড়ক ও এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে রুট নির্ধারণ করবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় জোনভিত্তিক চলাচলের ব্যবস্থা থাকবে। এক জোনে নিবন্ধিত রিকশা অনুমতি ছাড়া অন্য জোনে চলতে পারবে না।

জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক ও করিডরে ই-রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব সড়কে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে, সেখানেও এসব যান চলতে পারবে না।

ফুটপাত ব্যবহার করে রিকশা চালানো যাবে না। চালকদের সড়কের বাঁ পাশের লেন অনুসরণ করতে হবে। নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিং, ইচ্ছেমতো লেন পরিবর্তন এবং গাড়ি চালানোর সময় মুঠোফোন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সীমা মানতে হবে। চালক ছাড়া রিকশার আকারভেদে সর্বোচ্চ দুই থেকে চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য ব্যক্তিগত মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের অনুমতি থাকবে না।

গতিসীমা, হর্ন ও নিরাপত্তায় নতুন শর্ত

বিধিমালায় ই-রিকশার গতিনিয়ন্ত্রণ ও শব্দদূষণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। ৪০ ডেসিবেলের বেশি শব্দের হর্ন ব্যবহার করা যাবে না।

প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার অথবা ওডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি, নিরাপত্তার ঘাটতি কিংবা নিবন্ধন না থাকলে কোনো যানবাহন সড়কে চালানো যাবে না।

ই-রিকশার মেয়াদও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে সরকার। নিবন্ধনের তারিখ থেকে প্রতিটি যানবাহনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল হবে ১২ বছর। এ সময় শেষ হলে সংশ্লিষ্ট নম্বর প্লেটসহ নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। পর্যায়ক্রমে ই-রিকশাগুলোকে বিমার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

চার্জিং পয়েন্টেও আসছে নিয়ন্ত্রণ

ব্যাটারি চার্জের জন্য ইচ্ছেমতো বিদ্যুৎ ব্যবহার কিংবা অননুমোদিত স্থানে চার্জিংয়ের সুযোগ থাকছে না। কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত এবং সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্ধারিত গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জ করা যাবে।

চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত চার্জিং বন্ধ এবং অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিটি ওয়ার্ডে কিংবা উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী ই-রিকশার পার্কিং এলাকা নির্ধারণ করবে কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যৌথভাবে অথবা পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ই-রিকশার চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

নতুন বিধিমালার মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন, চলাচল, নিরাপত্তা, পার্কিং ও চার্জিং ব্যবস্থাকে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে এসব বিধান বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়।

সর্বশেষ - জেলার খবর

আপনার জন্য নির্বাচিত