Saturday , 8 August 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি ও প্রকৃতি
  12. ক্রীড়াঙ্গন
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. গাইবান্ধা

সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নতুন সামরিক জোট: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?

প্রতিবেদক
Newsdesk
August 8, 2026 9:45 pm

 অপরাধচিত্র ডেস্ক: ইরানকে নিবৃত্ত করা, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ইসরায়েলকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন সামরিক জোট গঠন করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। ন্যাটোর আদলে গড়া এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো এক দেশের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

পবিত্র শহর মক্কায় তিন সুন্নি দেশের এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইরানকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো তেহরান ও তাদের মিত্র হুতিরা হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করছে। অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটির উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ইরান ও তার মিত্রদের ছোড়া মিসাইল ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এই বাস্তবতা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। মার্কিন প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় আঞ্চলিক শক্তিগুলোকেই এখন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাই তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে রিয়াদ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, তিন দেশের সক্ষমতা একে অপরের পরিপূরক। তেলসমৃদ্ধ সৌদির বিপুল সম্পদ থাকলেও সামরিক সক্ষমতা বেশ কম। তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি থাকলেও তাদের প্রয়োজন বড় বাজার ও বিনিয়োগ। অন্যদিকে পাকিস্তানের বিশাল সামরিক জনবল ও পারমাণবিক সক্ষমতা থাকলেও তাদের রয়েছে অর্থসংকট। ফলে এই চুক্তির মাধ্যমে তারা মূলত একে অপরের ঘাটতি পূরণ করবে।

তবে ইরান যদি সৌদিতে হামলা করে, তবে তুরস্ক বা পাকিস্তান পাল্টা আক্রমণ করবে—এমন সম্ভাবনা বেশ কম। তারা মূলত নিজেদের ‘স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী’ হিসেবে বিবেচনা করে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো তাদের মূল লক্ষ্য নয়; বরং ইরান ও ইসরায়েল উভয়ের জন্যই এটি একটি বড় রাজনৈতিক ও প্রতীকী বার্তা।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরায়েলকে যুক্ত করে অঞ্চলে একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরির চেষ্টা করে আসছে। তবে নতুন এই প্রতিরক্ষা জোট সেই মার্কিন পরিকল্পনাকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলি আধিপত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তান ও তুরস্ক শুরু থেকেই ইসরায়েলের কঠোর সমালোচক। আর স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়া সৌদি আরবও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। সব মিলিয়ে এই জোট মূলত ইরানি আধিপত্য ও ইসরায়েলি শ্রেষ্ঠত্বের প্রকল্পে একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করবে।

সর্বশেষ - অপরাধচিত্র বিশেষ