আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুক্তরাজ্যের ‘এফবিআই’ খ্যাত ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) দেশটির সাবেক নগর ও দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিকের ব্যাপারে তথ্য-প্রমাণ নিতে গোপনে বাংলাদেশে এসেছিলেন এনসিএ গোয়েন্দারা। বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী তদন্তকারীদের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠক করেছেন তারা। এ বৈঠকের আয়োজন করে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন।
গত মাসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে টিউলিপের দুর্নীতি নিয়ে নতুন তথ্য-প্রমাণ দেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। গত ৫ আগস্ট টিউলিপের খালা শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এনসিএ গোয়েন্দারা দুইবার ঢাকা সফর করেছেন।
টিউলিপ সিদ্দিক ও শেখ হাসিনা ছাড়াও তাদের পুরো পরিবারের বিরুদ্ধে পাবনার রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৩ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শেখ হাসিনা এ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন টিউলিপ সিদ্দিকও। ওই চুক্তি থেকে তিনি ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা) আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশি সূত্রের বরাতে ডেইলি মেইল জানিয়েছে, ব্রিটিশ গোয়েন্দারা বৈঠকে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী টিউলিপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আনা অভিযোগ তদন্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। ওই সূত্র আরও জানায়, এনসিএ যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পস্টেড এবং হাইগেট এমপির বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টাও করতে পারে।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির কাছ থেকে লন্ডনে যথাক্রমে ৭ লাখ ও ৬ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট উপহার পাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর এরইমধ্যে মন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন টিউলিপ।
এ অবস্থায় টিউলিপ সিদ্দিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ইমেইল রেকর্ড এবং এমনকি তাকে জিজ্ঞসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, দেশটির কোনো নাগরিক বিদেশে দুর্নীতি করলে তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।