জাহিদ হাসান, নেত্রকোণা প্রতিনিধি:
নেত্রকোণা সদর উপজেলার কালীয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়নের দুআনী দুধকুড়া গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় নিজ বসতঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় মাহফুল মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।
নিহত মাহফুল মিয়া মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে খাবার খেয়ে মাহফুল নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে তার মা ঘুম থেকে উঠে ছেলের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে টর্চের আলো জ্বালিয়ে তিনি মাহফুলকে গলা কাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে নেত্রকোণা মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে।
স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিহতের স্ত্রী প্রায় দুই-তিন বছর আগে বাবার বাড়িতে চলে যান। তার দুই মেয়ে সন্তান বর্তমানে দাদির সঙ্গে বসবাস করছে। তারা আরও দাবি করেন, মাহফুলের সঙ্গে এলাকার অনেকের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এ ছাড়া তিনি নিয়মিত জুয়া খেলতেন বলেও অভিযোগ করেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী এক ব্যক্তির সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, “এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উন্মোচন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


















