সোমবার , ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. প্রবাসের কথা
  14. বরিশাল
  15. বিনোদন

তামাক ব্যবহার কমাতে ও রাজস্ব বাড়াতে তিন প্রস্তাব

প্রতিবেদক
Newsdesk
এপ্রিল ২০, ২০২৬ ৮:০৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে তামাকপণ্যের মূল্য ও কর কাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)। সংগঠন দুটি বলছে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে তামাকের ব্যবহার কমার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সভাকক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

সংগঠন দুটি সিগারেটের বিদ্যমান চারটি মূল্যস্তর কমিয়ে তিনটিতে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ২০০ টাকা বা তার বেশি নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকা প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশে সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরের ক্রেতাই সবচেয়ে বেশি। ড. মাহফুজ কবীর বলেন, এই দুটি স্তর একত্রিত করলে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা কমবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, প্রস্তাবিত কর সংস্কার বাস্তবায়িত হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি বাড়তি রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে, যা অর্থনীতির ওপর চাপ মোকাবেলায় সহায়ক হবে।

এছাড়া সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট আয়েশা সুহায়মা রব বলেন, তামাকপণ্যে সুনির্দিষ্ট কর চালু হলে কর ব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিড়ির ক্ষেত্রেও অভিন্ন মূল্য ও করহার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। ২০ শলাকার ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়ির দাম ৩০ টাকা এবং ৫০ শতাংশ কর আরোপের সুপারিশ করা হয়। একইভাবে জর্দা ও গুলের জন্য প্রতি ১০ গ্রামে যথাক্রমে ৬০ ও ৩০ টাকা খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়।

এছাড়া সব ধরনের তামাকপণ্যের ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।

সংগঠনগুলোর হিসাবে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তামাক খাত থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব—যা বর্তমান অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা যাবে। প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ত্যাগে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন আত্মা’র কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী, এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। প্রজ্ঞা’র হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

উল্লেখ্য, দেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা, বিপরীতে তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।

সর্বশেষ - রাজনীতি