আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ হুবাইব,টেকনাফ: শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আনোয়ারসহ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও পুরোহিতদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকার একটি এবং হ্নীলা এলাকার দুটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন কক্সবাজার রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো: আনোয়ার উল আলম। এ সময় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া, উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ রানা (কোয়ার্টার মাস্টার)সহ বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপও পরিদর্শন করেন রামু সেক্টর কমান্ডার ও টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া।
পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা পূজামণ্ডপের অবস্থান, প্রবেশ ও বহির্গমন পথ, দর্শনার্থীদের চলাচল, আশপাশের পরিবেশ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবহিত হন। এ সময় পুরোহিতদের উপহার প্রদান এবং শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদ্যাপনের বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।
কর্মকর্তারা পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিজিবি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত ছয়টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সদস্যরা নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিজিবি। পরিকল্পনার আওতায় নিয়মিত টহল জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৪২৫টি পূজামণ্ডপ। এ ছাড়া ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে থাকা ১ হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম এলাকায় অবস্থিত ১৮৩টি পূজামণ্ডপও নিরাপত্তার আওতায় থাকবে। নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৮টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় গুজব, অপতথ্য, সাম্প্রদায়িক উসকানি ও যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধেও বিশেষ নজরদারি রাখা হবে।
বিজিবির পক্ষ থেকে সবাইকে গুজবে কান না দেওয়া, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যক্রম নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি জননিরাপত্তা, শান্তিশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বাহিনীটি অঙ্গীকারবদ্ধ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া। এ ছাড়া উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলামও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


















