অপরাধচিত্র ডেস্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “আমি হোম মিনিস্টার। আমি নিজেই এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের শিকার। আমি চাইব না বাংলাদেশে আর কেউ গুম হোক।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার এমন একটি আইন চায় যার মাধ্যমে প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে যাওয়ার অধিকার পাবে, সঠিক বিচার পাবে এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গুম বিরোধী আইন ও র্যাব সংস্কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রথম অধিবেশনে গুম কমিশন অধ্যাদেশ পাশ করা হয়নি কারণ কেবল কমিশন গঠনই সমাধান নয়। সরকার সংসদে একটি স্থায়ী আইন এনেছে, যেখানে—গুমের সংজ্ঞানও অপরাধের শাস্তি স্পষ্ট করা হয়েছে।তদন্তের প্রক্রিয়া ভুক্তভোগীর অধিকার সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।নিখোঁজ ব্যক্তিকে পাওয়া না গেলে তার উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তির অধিকার এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।আইনের বিষয়ে যেকোনো মতামত সংসদীয় কমিটিতে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে র্যাব প্রসঙ্গে তিনি জানান বাহিনীটি বিলুপ্ত না করে জবাবদিহিমূলক সংস্কারের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। আধুনিক সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি এলিট ফোর্স প্রয়োজন হলেও তাদের স্বচ্ছতা জবাবদিহি মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ছয় মাসে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে এই বাহিনীর মনোবল পুনর্গঠনে কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন ৬১ দিনের গুম ও কষ্টের স্মৃতি নিজের গুমের অনুভূতির কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমার গুমের ৬১ দিনের প্রতিটি মুহূর্ত যদি লিখে রাখতে পারতাম, তবে তা একটি বড় সংকলন হতো। প্রতি মুহূর্তে মনে হতো—আগামী ভোর কি দেখতে পাব?”
তিনি জানান, তাকে মাত্র ৫ বাই ১০ ফুটের একটি ছোট স্যাঁতসেঁতে কক্ষে রাখা হয়েছিল, যেখানে কেবল একটি কম্বল ও পাতলা বালিশ ছিল। এক কোণে প্রস্রাব-পায়খানার দুর্গন্ধযুক্ত স্থানে ঘুমাতে কষ্ট হতো। দেওয়ালে নখের দাগ কেটে তিনি দিন গুনতেন।
পরবর্তীকালে তাকে গাড়িতে করে ভারতের শিলংয়ের এক নির্জন স্থানে ফেলে রেখে বলা হয়—”ইউ আর ফ্রি নাও।” সেখানে পুলিশের মাধ্যমে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর এক চিকিৎসকের ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়।গুম নিয়ে কটূক্তি বন্ধের আহ্বান গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হওয়া উপহাসের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমি, হুম্মাম বা আরমান বেঁচে ফিরেছি। কিন্তু বেঁচে থাকাটাকে নিয়ে হাস্যরস করা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হতাশাগ্রস্ত করবে।” তিনি আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে সরকারে না থাকলেও এই গুমবিরোধী আইন থাকবে এবং সবাই বিচার পাবে।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মঃ তিনি বলেন বিরোধী মত দমনের মানসিকতাই রাষ্ট্রকে ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল ভিত্তি ছিল ন্যায়বিচার আইনের শাসন তাই রাষ্ট্রে গণতন্ত্র চর্চা জরুরি। ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান (এমপি):ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে তিনি তিনটি মূল দাবি তুলে ধরেন জবাবদিহি বিচার সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ। তিনি নতুন আইনের ; ২১ ধারা বাতিলের পাশাপাশি পাঁচ মাস ধরে নিখোঁজ মিরাজ শেখের ঘটনায় স্বাধীন ভাবে তদন্তের দাবি জানান।অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী ব্যারিস্টার সারা হোসেন আলোকচিত্রী শহীদুল আলম জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব নূর খান লিটন এবং নাজমুল আহসান। এতে সভাপতিত্ব করেন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি।


















