Wednesday , 26 August 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি ও প্রকৃতি
  12. ক্রীড়াঙ্গন
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. গাইবান্ধা

মুখোশধারী অনেকে ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের চেষ্টায় আছেন: আইনমন্ত্রী

প্রতিবেদক
Newsdesk
August 26, 2026 3:04 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

মুখোশধারী অনেকে এখনো ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের চেষ্টায় আছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বনানীতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষ বলা হয়। তাদের ধরেন ৯৯.৯ পার্সেন্টের দেশ মানুষের চোখে আলো আছে। কিন্তু যাদের চোখে আলো আছে, যারা এই দেশ গঠন করার কথা, মানবিক মূল্যবোধের কথা বলার কথা, তারা কেউ চোখে দেখছেন না। তারা এই দেশের মানুষের অধিকার নিয়ে যাদের কথা বলার কথা ছিল, তারা কেউ করেন না। তারা আত্মকেন্দ্রিকতায় ভুগছেন।’

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আর যারা আজকে এখানে এসে যাদের সঙ্গে দেখলাম, তাদের প্রত্যেকের চোখের দিকে মুখের দিকে তাকালে মনে হয় প্রত্যেকে এক একজন স্বপ্ন।’

‘আর ওই ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে দেখবেন, অবিকল মানুষের মধ্যে দেখতে অনেক মুখ আছে। ধরে নিয়ে রাতের অন্ধকারে ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে হত্যা করে দিলেন। মানুষের মতো মুখ আছে, দেখবেন কারো ভাই, কারো বোন, কারো মা, কারো স্বামী এখনো নিখোঁজ আছে। অথচ তাদের চোখে আলো আছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে যারা চোখে আলো নিয়ে এই সমাজে বিচরণ করছি আমরা, আমাদের অনেকের মানুষের মতো মুখোশ আছে। সেই মুখোশ নিয়ে আমরা যেভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছি, সেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি না, ২০১৪ সালের জুলাই-আগস্টের সময় পাখির মতো গুলি করে এক হাজার ৪০০ মানুষকে রাস্তায়, দিনে হত্যা করা হয়েছে। ৩০ হাজারের মতো মানুষ কেউ হাত হারিয়েছে, কেউ পা হারিয়েছে, কেউ মাথা হারিয়েছে, কেউ খুলি, মাথা খুলি এখন অনেকের, প্লাস্টিক করে রাখা ভেতরের মগজটা আছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একজন মেধাবী ছাত্র ছিল, তার এই পাসটা নেই।’

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এখনো মানুষের মুখোশধারী অনেকের চোখ আছে, আলো আছে। তারা বলে এগুলো কিছু হয় না। তারা এখনো ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের জন্য চেষ্টায় আছে। আমরা বলব, আপনারা যে যেখানেই থাকুন চোখ খুলুন। আমরা যদি অপরাধ করি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখান, নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশ সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে এটা আপনার নৈতিক দায়িত্ব, সাংবিধানিক দায়িত্ব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন, সেখান থেকে যদি আমাদের চোখ খুলি। আমরা যদি আমাদের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কাজ করি, তাহলে হয়তো বাংলাদেশ একদিন সুকান্তের ভাষায় এ শিশু বাসযোগ্য ভূমি হিসেবে গড়ে উঠবে। আগামী প্রজন্মের জন্য হয়তো আমরা একটি বাসযোগ্য ভূমি রেখে যেতে পারব। আর যদি ব্যর্থ হই, তাহলে হেলাল হাফিজের ভাষায় আমরা উক্ত পুরুষের ভীরু কাপুরের উপমায় থাকব।’

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আসেন, আমরা ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো প্রত্যেকে প্রত্যেকে জায়গা থেকে কোনো না কোনো জায়গা, আমার বিবেকের জায়গা থেকে, বিবেক বোধ থেকে দায়িত্ব পালন করি।’

তিনি বলেন, ‘সে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকের ভুল হবে। ভুল সংশোধন করে আমরা একটার পর একটা কাজ করি। এ দেশকে গড়ে তুলে দেয় তা।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জননী এবং জন্মভূমি থেকে আপন কিছু নাই। কখনো কখনো জন্মভূমি জননীর থেকেও বড় হয়ে দাঁড়ায়।’

তিনি বলেন, ‘আর তা এই বলেই জুলাই যুদ্ধ থেকে গিয়েছিলেন ১০ বছরের শিশু আনাস। তার মাকে চিঠি লিখে গেছে, দ্যাট ইজ পার্ট অফ হিস্ট্রি নাও। যে মা আমি মিছিলে যাচ্ছি, পঙ্গু ছেলে যদি মিছিলে যেতে পারে, অন্ধ ছেলে যদি মিছিলে যেতে পারে, তাহলে আমি কি করে বাসায় বসে থাকি। আমি যদি মিছিল থেকে না ফিরে আসি, আমাকে ক্ষমা করে দিও। একদিন আমার জন্য তোমার গর্ববোধ হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘১০ বছরের শিশু তার বিবেকের তাড়নায় মিছিলে গিয়েছিল বাংলাদেশের মানুষকে মুক্ত করতে। জন্মভূমিকে স্বাধীনতার স্বাদ দিতে, গণতন্ত্রের স্বাদ দিতে, আইনের শাসনের স্বাদ দিতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশের পথ ধরে হাঁটতে চাই। আর চাই বলেই আমরা বিশ্বাস রাখি এই বাংলাদেশে ফ্যাসিজম যাতে আবার পুনর্বাসিত না হয়, আমরাও যাতে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারি। সেরকম একটি রোডম্যাপ আসেন তৈরি করি। শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না।’

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘যারা অন্ধ হয়ে আছেন, ফ্যাসিস্টের খুনখারাবি দেখছেন না, তাদের বলব চোখ খুলুন। আল্লাহ প্রদত্ত দুটি চোখ খুলুন। সেটা যদি না পারেন, তাহলে অন্তর চোখ খুলুন। আপনারা দেখতে পাবেন।’

ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের মত প্রতিষ্ঠানগুলো সামনে এগিয়ে এসেছেন। আমি আশা করব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে তারা তাদের যদি এখানে আরও কিছু করণীয় থাকে, বিশেষ করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, তাদের সঙ্গে আপনারা যদি যোগাযোগ করেন, তারাও আপনাদের এই শুভ কাজে অংশীদার না হতে পারলেও সঙ্গে থাকতে পারবে। যে কোন সহযোগিতা আপনাদের সেখান থেকে পৌঁছে দিতে পারবে। আমি নিজে কথা বলব সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে, যাতে আপনাদের এ ধরনের ইনস্টিটিউশনকে পেট্রোন (পৃষ্ঠপোষকতা) করেন, আপনাদের সঙ্গে থাকে।’

সর্বশেষ - অপরাধচিত্র বিশেষ

আপনার জন্য নির্বাচিত
Share via
Copy link