নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (অব.) খন্দকার গোলাম ফারুক ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার খানের স্থাবর সম্পত্তি জব্দ এবং অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধের করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
দুর্নীতির মামলায় আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী এই আদেশ দিয়েছেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাঈল স্থাবর সম্পদ জব্দ ও অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন।
আদেশে গোলাম ফারুক নামে ঢাকার বাড্ডা ও টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের ২১০ দশমিক ৬১ শতাংশ জমি এবং খিলগাঁওয়ের ১২০ বর্গফুটের গাড়ি পার্কিংসহ ২৫৮৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে। যার মূল্য দেখানো হয়েছে এক কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার ৭২৮ টাকা। এছাড়া এক কোটি ৩৫ লাখ ৭৭ হাজার ৩৮২ টাকা ব্যাংক, এফডিআর অবরুদ্ধের আদেশ হয়েছে।
অন্যদিকে শারমিন আক্তার ঢাকার বাড্ডা ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন জায়গায় থাকা ১৯৭ দশমিক ৬২ শতাংশ জমি এবং বনানীর একটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেয়া হয়েছে। এসব সম্পত্তির মূল্য দেখানো হয়েছে এক কোটি ৫১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫২ টাকা। এছাড়া একটি ব্যাংক হিসাব ও একটি এফডিআর হিসাবের ১২ লাখ দুই হাজার ৫০০ টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দেয়া হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, খন্দকার গোলাম ফারুক ও শারমিন আক্তার খানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানকালে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যাদি এবং আয়কর নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, খন্দকার গোলাম ফারুকের নামে দায়বাদে নিট সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এবং পারিবারিক ব্যয় ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকাসহ তার অর্জিত মোট সম্পদের মূল্য ৪ কোটি ১৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ২ কোটি ৮৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে, তার আয়ের চেয়ে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা বেশি, যা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বলে প্রতীয়মান হয়।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, খন্দকার গোলাম ফারুকের স্ত্রী শারমিন আক্তার খান একজন গৃহিণী। তার নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৩ কোটি ২৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং পারিবারিক ব্যয় ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকাসহ তার অর্জিত মোট সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ২৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে, তার আয়ের চেয়ে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বেশি, যা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বলে প্রতীয়মান হয়।
এমতাবস্থায়, অনুসন্ধান বা তদন্ত চলাকালে এসব সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর, বিক্রি বা অন্য কোনোভাবে গোপন বা বিলুপ্ত করার সুযোগ যেন না থাকে এবং পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্পদ সংরক্ষিত থাকে, সে জন্য অভিযুক্তদের নামীয় স্থাবর সম্পদসমূহ ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পদ ফ্রিজ করা প্রয়োজন।

















