পাবনা প্রতিনিধি :
পাবনার ঈশ্বরদীতে এক ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে দাদিকে কুপিয়ে হত্যার পর তাঁর ১৫ বছর বয়সী নাতনিকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাড়ি থেকে দাদির রক্তাক্ত মরদেহ এবং পাশের একটি সরিষার ক্ষেত থেকে নাতনির বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন- উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়ার জয়নাল খাঁর মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) এবং মেয়ে জামিলা আক্তার (১৫)। জামিলা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার মধ্যরাতে হঠাৎ জয়নাল খাঁর বাড়ি থেকে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা রাস্তায় বের হন। কিছুক্ষণ পর কান্নার শব্দ থেমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ভেবে স্থানীয়রা ঘরে ফিরে যান। তবে শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ওই সময় পরিবারের পক্ষ থেকে জামিলা নিখোঁজ বলে জানানো হয়। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি সরিষার ক্ষেতে জামিলার বিবস্ত্র মরদেহ পাওয়া যায়।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। অপরাধের ধরন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েটিকে অপহরণের পর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, “এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। সিআইডি ও গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও দোষীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

















