মিজানুর রহমান, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের নগরকান্দায় পারিবারিক বিরোধের জেরে নাজমা বেগম (স্বামী উসমান মাতুব্বর) নামে এক মাতুব্বর তার পঞ্চম স্ত্রী নাজমা বেগম কে মারধর করে রক্তাক্ত করায় তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে বর্তমানে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নাজমা বেগম ।
গত ৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার গোড়াইল এলাকায় নিজ বাড়িতে এ মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নাজমা বেগম। তাঁর পিতার নাম রজব আলী। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা লস্কারপুর গ্রামে।
ভুক্তভোগী নাজমা বেগমের অভিযোগ, তাঁর স্বামী উসমান মাতুব্বর মাঝেমধ্যেই তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। তিনি বিদেশে থাকার সময় তাঁর স্বামী সোনার গহনা, গলার হার ও আংটি বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ছাড়া মহিষ কেনাসহ বিভিন্ন কাজের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা নিয়েছেন। এসব টাকার হিসাব চাইলে স্বামী কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেন না।
নাজমা বেগম আরও অভিযোগ করেন, টাকা ও গহনার হিসাব চাইতে গেলে তাঁর স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে কিল-ঘুষি, লাথি ও চড় মারেন। একপর্যায়ে কাঠের বাটাম দিয়েও মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং বাম চোখের নিচে ঘুষির আঘাতে রক্তাক্ত জখম হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, বিয়ের পর জানতে পারেন, তাঁর স্বামী একাধিক বিয়ে করেছেন এবং আগের স্ত্রীদেরও নির্যাতন করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী উসমান মাতুব্বরের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি স্ত্রীকে মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, “আমার স্ত্রীকে মারছি। সে পারলে আমার নামে থানায় গিয়ে যত পারে মামলা দেক, আমি বুঝব।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাজমা বেগম বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, ” ভুক্তভোগী নারী থানায় একটি অভিযোগ করেছে।এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

















