Sunday , 26 July 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কুমিল্লা
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. খুলনা
  9. খেলাধুলা
  10. গাইবান্ধা
  11. গাজীপুর
  12. চট্রগ্রাম
  13. চুয়াডাঙ্গা
  14. জাতীয়
  15. জামালপুর

ময়মনসিংহের ত্রিশাল এলজিইডি অফিসে ঘুষ ছাড়া নড়ে না ফাইল

প্রতিবেদক
Newsdesk
July 26, 2026 4:28 pm

অপরাধচিত্র ডেস্ক: দরপত্রে অংশ নিয়ে লটারির মাধ্যমেই কাজ পান ঠিকাদাররা। তবুও কাজের চুক্তি, কার্যাদেশ ও কার্যক্রমের প্রতিটি পদক্ষেপেই গুণতে হয় ঘুষের টাকা। এ ধরনের দুর্নীতি যেন ত্রিশাল এলজিইডির নিয়ম-নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ঠিকাদারের কাছ থেকে চাপ দিয়ে প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেনের জন্য হিসাব সহকারী কর্মকর্তা এনামুল হকের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও ফাঁস হয়েছে। প্রকৌশলীর চেয়ারে যিনিই বসেন ঘুষ ছাড়া নড়ে না কোনো ফাইল এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিউল্লাহ খন্দকারকে ঠিকাদাররা প্রকল্প বরাদ্দের ২ শতাংশ কমিশন না দিলে আটকে দিতেন যে কোনো বিল। ঢাকার প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে তহবিল আনার জন্যও ঠিকাদারের কাছ থেকে নেওয়া হতো টাকা।

প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিউল্লাহ খন্দকারের ঘুষ কেলেঙ্কারি নিয়ে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ‘বরাদ্দের ২ শতাংশ না দিলেই কাজে বাগড়া প্রকৌশলীর’ শিরোনামে সমকালে সংবাদ প্রকাশ হয়। এর পরপরই ত্রিশাল থেকে বদলি হন তিনি। তার ৯ দিন পর ১৫ সেপ্টেম্বর ত্রিশালে যোগ দেন প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন। একই পথে হাঁটতে শুরু করেন তিনিও। ঠিকাদারদের অভিযোগ, নিজ হাতে নয়, অফিসের হিসাব সহকারী কর্মকর্তা এনামুল হকের মাধ্যমে বরাদ্দের ১ শতাংশ টাকা নিচ্ছেন তিনি।

ত্রিশালে ৯টি নতুন স্কুল ভবনের নির্মাণকাজ, পাকা সড়ক নির্মাণসহ ৫০টি সড়ক সংস্কারকাজ, এডিপি ও রাজস্বসহ ৩২টি প্যাকেজের কাজ চলমান। প্রতিটি কাজের চুক্তি, কার্যাদেশ ও কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপেই বরাদ্দের ১ শতাংশ ঠিকাদাররা না দিলে বিল-ভাউচারেও স্বাক্ষর করেন না প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন। এ ছাড়া জামানতের ৬ লাখ টাকা তুলতেও দিতে হয়েছে ২০ হাজার টাকা। প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেনকে অনুসরণ করে চলছেন তাঁর সহকারী প্রকৌশলীরাও। তাদেরও দিতে হয় বরাদ্দের ১ শতাংশ টাকা, নয়তো স্বচ্ছ কাজেও ভুল ধরে কাজ আটকে রাখেন। হয়রানি থেকে বাঁচতে ঘুষ দিতে বাধ্য হন ঠিকাদাররা।

সম্প্রতি ঠিকাদারের কাছ থেকে চাপ দিয়ে প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেনের জন্য হিসাব সহকারী কর্মকর্তা এনামুল হকের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও ফাঁস হয়েছে। গোপনে ধারণ করা দুই মিনিটের ভিডিওটি সমকালের হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা ও শোনা যায়, অপারগ হয়ে প্রকৌশলীর জন্য এনামুলের কাছে পাঁচ হাজার টাকা দিতে চাইলেন এক ঠিকাদার।

এনামুল বলছেন, ‘না ভাই, এই পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে আমি ছ্যাঁচড়া সাজতাম না। আর এই কথা কইলেই সামনেই ফাইলটা আটকে যাইবো। স্যারের (প্রকৌশলীর) কথা হইলো যে বিল আছে, ২০ হাজারেও এইতা ফাইল ছুটতো না।’ এসব কথার পরও ওই ঠিকাদার পাঁচ হাজার টাকা নেওয়ার জন্য এনামুলকে জোরাজুরি করছিলেন। তখন এনামুল বলেন, ‘যেটা পারতাম না সেটা নিমু ক্যা? এটা নিবো না, নিলে আমারে ছাড়তো না।’ এবার এনামুল তাঁর দুই হাত নিজের গলায় চেপে ধরে বলেন, ‘এইভাবে ফাঁসি দিবো।’

ঠিকাদাররা জানান, বরাদ্দের ১ শতাংশ টাকা দিতে হয় উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেনকে। না দিলে বিল-ভাউচারেও স্বাক্ষর করেন না তিনি। সহকারী প্রকৌশলীদেরও দিতে হয় বরাদ্দের ১ শতাংশ টাকা, নয়তো স্বচ্ছ কাজেও ভুল ধরে কাজ আটকে রাখেন তারা। হয়রানি থেকে বাঁচতে ঘুষ দিতে বাধ্য হন। আর ঘুষ নয় প্রয়োজনে আগামীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানান তারা।

ঠিকাদার এমদাদুল হকের ভাষ্য, মোক্ষপুর ইউনিয়নের সানকিভাঙ্গা-সাপখালী পর্যন্ত সড়ক সংস্কারে কার্পেটিংয়ের সময় টাকার জন্য সহকারী প্রকৌশলীকে পাঠিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন প্রকৌশলী। কার্পেটিংয়ের জন্য রোলার গাড়িসহ রাস্তায় থাকা অন্যান্য মালপত্র নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। বাধ্য হয়ে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পর কাজ শুরুর অনুমতি দেন তিনি। বিল তুলতে গিয়ে আবারও হয়রানির শিকার হন তিনি। দিতে হয় আরও ৫০ হাজার টাকা। এখানেই শেষ নয়, কাজ শেষে জামানতের টাকা তুলতে দিতে হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। শতভাগ স্বচ্ছ কাজ করেও পদে পদে প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেনকে দিতে হয় ঘুষের টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার বলেন, স্কুল রাস্তাসহ উপজেলায় তাঁর ৫টি কাজ চলমান। নানাভাবে হয়রানির কারণে এসব কাজের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকেই ঘুষ দিতে হয়েছে ২ লাখ টাকার ওপরে। তাঁর সহকারীদেরও দিতে হয় ঘুষ। এসব কারণে গুণতে হয় লোকসান। একই অভিযোগ প্রায় সব ঠিকাদারের। বরাদ্দের এক শতাংশ ঘুষ ছাড়া কোনো কাজের বিল সঠিকভাবে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ তাদের।

বরাদ্দের বিপরীতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে এক শতাংশ টাকা নেওয়ার বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে এলজিইডি ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর বলেন, না এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই।

অভিযোগের বিষয়ে এলজিইডির ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেনের ভাষ্য, কোনো ঠিকাদারের কাছ থেকে কোনো ঘুষ নেন না তিনি। হিসাব সহকারী এনামুল আপনার ঘুষের টাকার জন্য ঠিকাদারের চাপ দিচ্ছেন, গোপনে ধারণ করা এমন একটি ভিডিও হাতে এসেছে, এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী? তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি আমাকে দেন, আমি তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

প্রকৌশলীর নামে ঠিকাদারদের কাছ থেকে এক শতাংশ টাকা নেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে হিসাব সহকারী এনামুল হক বলেন, ‘ভাই, সাক্ষাতে বলি।’ একই প্রশ্নে তিনি আবার বলেন, ‘দেখা করে পরে বলি। আপনি কোথায় আছেন বলুন, আমি সেখানে এসে সরাসরি কথা বলি।’ পরে অফিসে গিয়ে তাঁকে না পেয়ে আবারও ফোন করলে তিনি আর ধরেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী জানান, জুন ক্লোজিংয়ের সময় একাধিক ঠিকাদার তাঁর কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।

 

সর্বশেষ - রাজনীতি