Monday , 24 August 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি ও প্রকৃতি
  12. ক্রীড়াঙ্গন
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. গাইবান্ধা

যাদুকাটা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন: লুটে বিপন্ন প্রকৃতি

প্রতিবেদক
Newsdesk
August 24, 2026 7:32 pm

নুরুল আমিন সিমান্ত প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ তাহিরপুর উপজেলার  সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদী—একসময় যার স্বচ্ছ নীল জলরাশি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও খনিজ বালুর জন্য দেশজুড়ে ছিল পরিচিতি—আজ অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে এবং অনেক ক্ষেত্রে ইজারার বাইরের এলাকা থেকেও যান্ত্রিকভাবে বালু উত্তোলন চলছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে ছোট ডিঙি নৌকা ও মাহিন্দ্রা পিকআপে করে বালি পাচার করা হচ্ছে। এর ফলে নদীর তীর ভাঙছে, বসতভিটা ও কৃষিজমি বিলীন হচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
লাউড়েরগড় এলাকায় অবৈধ বালি উত্তোলনের ফলে শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। বালি খেকোরা বালি তুলতে তুলতে ঐতিহ্যবাহী শিমুল বাগানের একেবারে সন্নিকটে চলে এসেছে, যার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে শিমুল বাগানের অস্তিত্ব। স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যে ৩-৪টি শিমুল গাছ নদীর স্রোতে তলিয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে লাখো পর্যটকের প্রিয় এই শিমুল বাগান যাদুকাটার পানিতে হারিয়ে যাবে, যা দেশের পর্যটন খাত ও অর্থনীতিতে সরাসরি আঘাত হানবে। এছাড়া দীর্ঘদিনের স্থানীয় খেলার মাঠটিও সিন্ডিকেটের দখলে চলে যাচ্ছে; রাতের আঁধারে মাঠের আশপাশের বালি তুলে পাচার করা হচ্ছে। এতে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ‘বারিক্কা টিলা’—যেখান থেকে যাদুকাটা নদী, মেঘালয়ের পাহাড় ও সীমান্ত সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়—তাও আজ হুমকির মুখে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা লাউড়েরগড়ের রাজমিনের ছেলে জাহাঙ্গীর (৪৫)। সে বাদাঘাট ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত এবং লাউড়েরগড় যাদুকাটা পাথর সমবায় সমিতির (অনিবন্ধিত) সভাপতি। তার সাথে রয়েছে বাদাঘাট ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও বাদাঘাট ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা মেম্বার, তার ছেলে এবং জাহাঙ্গীরের ভাইয়ের মেয়ের জামাতা মাইনুদ্দিন (২৭), এবং সোহেল (৩৪)। এই ৪ জন মূলত মূল চালক​সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা হলেন:​সাজারুল পিতা- সিরাজ হুমায়ুন পিতা- হান্নান ​রফিকুল পিতা- অজ্ঞাত নজিরপিতা- আশেক আলী, সপিস পিতা- জালাল বজলু পিতা- জলাল মিয়া মনির পিতা- রমজান​অন্য এক সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছে বাদাঘাট ইউনিয়নের খাসতাল গ্রামের যুবলীগ নেতা ড্রেজার মাসুক সর্দার তার ম্যানেজার আবুল মিয়া এবং ড্রেজার জামাল। ২৫ জুলাই শনিবার দুপুরে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার শারুখ আলম শান্তনুর নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে ড্রেজারসহ একজনকে আটক করে তবে খাসতাল ঢালারপাড় গ্রামের ২৫-৩০ জনের বালু খেকো চক্রটি প্রশাসন নৌ পুলিশের ওপর অনবরত পাথর নিক্ষেপ করে এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পরিস্থিতি বেগতিক দেখে একটি ড্রেজার জব্দ করেই টিম ফিরে আসে। পরে সহকারী কমিশনার ভূমি আঘাতের কথা অস্বীকার করে জানান নৌ পুলিশ বাদী হয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রেখেছে।
​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বালি উত্তোলন ও পাচার বন্ধ করা না গেলে বর্ষার ভারী বর্ষণ ও নদীভাঙনে লাউড়েরগড়ের জনজীবন ব্যাহত হবে এবং পর্যটন খাত ধ্বংস হয়ে যাবে। ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে লাউড়েরগড় বিজিবির বিওপি ক্যাম্পের সামনে থেকে দিনদুপুরে পাড় কেটে বালি পাচারের চিত্র দেখা যায়। বিজিবি একটি ছোট নৌকা নিয়ে ধাওয়া দেওয়ার ‘নাটক’ করলেও কাউকে ধরেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজিবির নৌকার চালক স্থানীয় হওয়ায় সে কৌশলে বালি বহনকারী নৌকাগুলোকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে এবং এতে বিজিবি সদস্যদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানান, বালি পাচারের সাথে জড়িত বড় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে পরিবেশ আইনে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয় (তাহিরপুর থানা মামলা নং-১৩/২১৭,
​তিনি আরও জানান, অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় পরিদর্শক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম গত ০৬/০৭/২০২৬ তারিখে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (তাহিরপুর) ২৭ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেছেন।
​উল্লেখযোগ্য আসামিগণ ​আফতাব উদ্দিন (চেয়ারম্যান) (৪০), সাং- সোহালা মোশাহিদ হোসেন রানু (রানু মেম্বার) (৩৭), সাং- ঘাগটিয়া আদর্শগ্রা ​জামাল মিয়া সাং- ঢালারপাড় লাউড়েরগড় বোরহান উদ্দিন সাং- রাজারগাঁও​বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন সংশোধিত-২০১০ ধারার বিধান লঙ্ঘনে এই চার্জশীট দেওয়া হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদী মোঃ মোহাইমিনুল হক বলেন ​সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নৌ-পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ - অপরাধচিত্র বিশেষ

Share via
Copy link