নিজস্ব প্রতিবেদক :
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও সক্রিয় ও কৌশলী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন অপরিহার্য। এটি নিশ্চিত করা সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব এবং আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বারবার তাগিদ দিয়ে আসছি।
শুক্রবার রাজধানীর জিয়া উদ্যানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ‘বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি’ এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশনেত্রীর কর্মময় জীবন এতটাই বিস্তৃত ও বর্ণাঢ্য যে, একটি মাত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে তা পুরোপুরি ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। তার আপসহীন আন্দোলন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে আলাদা আলাদা বড় পরিসরে আয়োজন হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, এদেশের মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যারা সরাসরি তার রাজপথের সংগ্রাম দেখেনি, তারা এই ধরনের প্রদর্শনীর মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হবে। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় তার লড়াই থেকে সবার শিক্ষা নেওয়ার আছে। তার জানাজায় মানুষের অভূতপূর্ব উপস্থিতিই প্রমাণ করে তিনি কতটা জননন্দিত ছিলেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে বিএনপির এই প্রবীণ নেতা বলেন, সব রাজনৈতিক নেতা উত্তরাধিকার রেখে যেতে পারেন না। তবে বেগম জিয়া তার আদর্শের উত্তরাধিকার হিসেবে তারেক রহমানকে রেখে গেছেন। তিনি এখন দেশের মানুষের আশার আলো এবং তার নেতৃত্বেই জনগণ একটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চায়।
সাম্প্রতিক সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পথে উত্তরণ ঠেকাতে কিছু অপশক্তি সবসময়ই বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করে। তবে এদেশের মানুষ দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে পরীক্ষিত। এসব অপকর্ম করে সাধারণ মানুষকে থামানো যাবে না।
নির্বাচনী প্রস্তুতি ও ইশতেহার প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান জানান, দলের ইশতেহার ও নির্বাচন পরিচালনার কাজ একটি বিশেষ টিমের মাধ্যমে দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং খুব শিগগিরই তা জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।
দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের ইতোমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। অনেকেই সাড়া দিয়েছেন। আমরা আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি হবে এবং দল ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে লড়বে।
অনুষ্ঠানে বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-ঢাকার উপদেষ্টা ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন, সংগঠনটির সভাপতি মারুফা রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটির উপদেষ্টা আতিকুর রহমান রুমন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন, বাংলাদেশের চার দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেসব নারী নেতৃত্ব সাহস, দৃঢ়তা ও গণআস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন, তাদের অগ্রভাগে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ছিলেন আপসহীনতার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তরুণরা বেগম জিয়া সম্পর্কে জানতে চায়। আমরা খুব শিগগিরই বিভিন্ন জায়গায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন সংগ্রাম নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করব।
বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-ঢাকার সভাপতি মারুফা রহমান বলেন, আমরা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এই আয়োজন করেছি।এখানে একেকটি ছবি তার রাজনৈতিক জীবনের একেক সময়কার দলিল। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অনেক মানুষ এখানে আসছেন। বিশেষ করে তরুণরা আসছেন, তাদের আগ্রহটা বেশি। তারা বেগম জিয়ার সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবেন।
সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ বলেন, তরুণরা বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে জানতে চায়। আমরা ধাপে ধাপে আরও বেশ কিছু আয়োজন করব। খুব শিগগিরই বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-ঢাকার উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্র পরিচালনা, আন্দোলন-সংগ্রাম ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ওপর বিভিন্ন ডকুমেন্টারি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
অনুষ্ঠানে বেগম জিয়ার পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্বের প্রায় ১০০টি স্থিরচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এসময় সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আদনান আজাদ, সহ-সভাপতি ফেরদৌস মামুন, জুলফিকার হোসাইন সোহাগ, আনোয়ার হোসেন জনি ও রাশেদ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম আমিনুল ইসলাম ও গোলাম রাব্বী সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম জনি, অর্থ সম্পাদক ইসহাক আসিফ, দপ্তর সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবির, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রামিম হাসান, প্রচার সম্পাদক জাহিন তালুকদার, গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক আরাফাত আলী, প্রকাশনা সম্পাদক টিনা খানম, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, নাট্যবিষয়ক সম্পাদক বিভান বাদল, সমাজসেবা সম্পাদক আজাদ আহমেদ, পরিকল্পনা সম্পাদক রেজওয়ান উল আরেফিন, প্রচার সম্পাদক জাহিন তালুকদার, ক্রীড়া সম্পাদক মির্জা সম্রাট রেজা, সদস্য অরণ্য পাশা, আলমগীর সরকার লিটনসহ সংগঠনটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
















