রাজধানী ঢাকায় অল্প সময়ের মাঝারি বা ভারী বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা যেন এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল-জলাশয় দখল ও ভরাট, দুর্বল ড্রেনেজব্যবস্থা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতায় প্রকট হয়ে ওঠা জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন নগরবাসী। সমস্যা সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা বলছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় কাটছে না বাসিন্দাদের।
বিশেষজ্ঞরা মতে, জলাবদ্ধতা নিরসনে অতীতে ড্রেন ও খাল পরিষ্কারের মতো টোটকা সমাধানে সীমাবদ্ধতা ছিল। অপরিকল্পিতভাবে বিচ্ছিন্ন কিছু ড্রেনেজ নির্মাণের মতো কাজে শত শত কোটি টাকা ব্যয় হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো কাজে দেয়নি। এতে সমস্যা নিরসন না হয়ে শুধু অপচয়ই হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনে প্রথমতম দরকার এটি পূর্ণাঙ্গ ‘মাস্টারপ্ল্যান’। কিন্তু সেই মাস্টারপ্ল্যানই নেই।
এই নগরপরিকল্পনাবিদ বলেন, ‘ড্রেনেজ লাইন ও খালগুলোর দায়িত্ব ছাড়ার আগে একটা মাস্টারপ্ল্যান করেছিল ওয়াসা। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর সিটি করপোরেশন না নিজেরা মাস্টারপ্ল্যান করেছে বা ওয়াসার মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করেছে। ফলে সিটি করপোরেশন এতদিন যা করছে সেগুলো বিচ্ছিন্ন- একটার সাথে আরেকটার কোনো সম্পর্ক নাই। যার ফলে আমাদের অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে কিন্ত সেগুলো আমাদের প্রাকৃতিক ড্রেনেজ সিস্টেম ও নেচার সিস্টেমের সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় ঘটেনি। ফলে টাকাটা জলে যাচ্ছে।’
আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘সিটি করপোরেশন দুই দিন পরপরই খাল থেকে ময়লা তুলে পাশেই ফেলে দেয়। এতে আবারো ময়লা খালে গিয়েই পড়ছে। আবার কমিউনিটিকে এনগেজড করতে পারছে না যে, খালে ময়লা ফেলবেন না। আবার অনেক খাল দখল হয়ে গিয়েছে, খালের নেটওয়ার্কের মধ্য বিল্ডিং হয়ে গিয়েছে। ছোট ড্রেন নালা যেগুলো আছে সেগুলো ময়লা আবর্জনায় ঢাকা। এগুলো বছরের পর বছর পরিষ্কার করা হয় বলে মনে হয় না। আল্টিমেটলি আমাদের আন্ডারগ্রাউন্ড পানি যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নাই। ফলে ঢাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা করুণ একটা অবস্থায় চলে এসেছে।’
ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করতে হলে একটা মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে যে, (বৃষ্টির) পানিটা কোনদিক দিয়ে নামবে। খালগুলো কীভাবে প্রবাহ থাকবে। এগুলোর (খালের) সঙ্গে ড্রেনেজ সিস্টেমের সমন্বয় কীভাবে ঘটবে। প্রথমত এই মাস্টারপ্ল্যান দরকার। দ্বিতীয়ত, মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী পানি প্রবাহের নেটওয়ার্কগুলোকে রিএস্টাবলিশ (পুনরায় কার্যকর) করতে হবে। আমাদের নালা ও খালগুলো রেগুলার আপডেট (নিয়মিত সংস্কার) এবং পরিষ্কার করতে হবে। এবং তৃতীয়ত, আমাদের কমিউনিটিকে এনগেজড করতে হবে৷ কারণ আমরা যেন আমাদের আশেপাশের খাল, নালা ও জলাশয়ে পলিথিন-প্লাস্টিক ও অন্যান্য ময়লা আবর্জনা না ফেলি। এটা কমিউনিটিকে কন্টিনিউজলি করতে বাধ্য করতে হবে।’
ঢাকার যেসব এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করছে, তার একটি মালিবাগ ও আশপাশ এলাকা। টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টি হলে মালিবাগের প্রায় প্রতিটি এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এমনকি বৃষ্টি ছাড়াই কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
মালিবাগের মোমেনবাগ রোডে শুধু বর্ষা মৌসুমই নয়, সারা বছরই জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শুক্রবার বা ছুটির দিন হলেই তৈরি হচ্ছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। এজন্য বৃষ্টির প্রয়োজন হচ্ছে না, বৃষ্টি ছাড়াই রোডটির একটি অংশে হাঁটু পানি উঠে যায়। ফলে মোমেনবাগ, শান্তিবাগ ও রাজারবাগ এলাকার মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোমেনবাগের পুরো ড্রেনেজ লাইন অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্যদিনের ব্যবহৃত পানিই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ছুটির দিন বাসিন্দাদের পানি ব্যবহার বেশি হওয়ায় সেদিন জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করছে।
এমন পরিস্থিতিতে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চেয়ে সম্প্রতি দুশো বাসিন্দা একটি আবেদন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বরাবর দাখিল করেছেন। ওই আবেদনে বলা হয়, ‘সামান্য বৃষ্টি হলে পানি নিষ্কাশন না হয়ে রাস্তায় জমে যায়। শুধু তাই নয়, দুপুর বেলা এলাকার সমস্ত বিল্ডিংয়ের বাথ-রুম, টয়লেট ব্যবহারের ফলে ব্যবহৃত পানি ড্রেন দিয়ে নিষ্কাশন না হয়ে ম্যানহোল দিয়ে ওভারফ্লো হয়ে রাস্তায় প্রায় এক ফুট পর্যন্ত পানি জমে যায়। জমে যাওয়া পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বৃষ্টির জমা পানি ও বাসা-বাড়ির বাথরুমের ব্যবহৃত পানি অতি ধীরে নিষ্কাশন হয়, এতে একাধিক দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়।’
মোমেনবাগের মতো ড্রেনেজ লাইনের সমস্যা আশপাশ এলাকাতেও রয়েছে। বৃষ্টি হলেই মালিবাগের প্রত্যেকটি এলাকার ড্রেনেজ লাইনের দুর্বলতা স্পষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি শিকার করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও।
কথা হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘মালিবাগ এলাকার এলাকার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ড্রেনেজ লাইন ড্রেমেজ হয়ে গিয়েছে। মূলত এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভার নির্মাণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।’
রাজধানীর জলাবদ্ধতার একটি হটস্পট নিউ মার্কেট এলাকা। বৃষ্টি হলেই এখানকার সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে দেখা দেয় তীব্র জলাবদ্ধতা। এর কারণ ড্রেনেজ লাইনের বেহাল অবস্থা।
প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘পিলখানার (বিদ্রোহ) ঘটনার পর সেখানকার ড্রেনেজ লাইন অকেজো হয়ে গেছে৷ দীর্ঘদিন সেটি নিয়ে কাজ হয়নি। তাই ওই দিক দিয়ে পানি খুব সামান্য করে প্রবাহিত হয়। এ কারণে ওই এলাকায় জলজট তৈরি হচ্ছে।’
নিউ মার্কেট ও মালিবাগ এলাকা ছাড়াও ৩৩টি এলাকা জলাবদ্ধতার জন্য হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১০৮টি এলাকা জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকার ড্রেনেজ লাইন যেমন অকেজো তেমনি পানি নিষ্কাশনের আউটলেট লাইনের সমস্যাও রয়েছে।
ঢাকা বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল মেগাসিটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু জনবহুল এই শহর বেড়ে উঠছে অপরিকল্পিতভাবে। এতে খাল ও জলাভূমি ভরাট যেমন হচ্ছে তেমনি শহরের ভূমির উপরিভাগ কনক্রিটে ডেকে গেছে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের সুযোগ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যার ফলে জলাবদ্ধতা সংকটও প্রকট হয়েছে।
নিয়ন্ত্রণহীন ও অপরিকল্পিত নগরায়নের ভয়াবহতা উঠে এসেছে নগর–পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) এক গবেষণায়। ২০২৩ সালে গবেষণাটি করেছিল বিআইপি। ওই গবেষণা অনুযায়ী, তিন দশকে ঢাকার মোট আয়তনের ২০ শতাংশের বেশি এলাকায় জলাভূমি ছিল। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়নে জলাভূমি কমে ২ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। এই সময়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট জলাভূমির প্রায় ৮৬ শতাংশ ভরাট করা হয়েছে।
শুধু জলাভূমি ভরাটই নয়, অপরিকল্পিত নগরায়নে ফাঁকা জায়গা কমে আসা এবং কনক্রিটে আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণের ভয়াবহতার চিত্রও ফুটে উঠেছে বিআইপির গবেষণায়। এতে বলা হয়েছে, ১৯৯৫ সালে ঢাকা শহরের ফাঁকা জায়গা ছিল ৫২ বর্গকিলোমিটারের বেশি। এখন সেটি ৪৩ শতাংশ কমে ৩০ বর্গকিলোমিটারের এসে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া বিআইপি বলছে, ঢাকায় ধূসর এলাকা ও কংক্রিটের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে। কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকা ১৯৯৯ সালে ছিল ৬৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ, যা ২০১৯ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ৮২ শতাংশে।
এদিকে অপরিকল্পিত নগরায়নে ঢাকার অনেক খাল হারিয়ে গেছে। যেগুলো টিকে আছে সেগুলো মৃতপ্রায়। ঢাকায় কী পরিমাণ খাল হারিয়েছে তা উঠে এসেছে রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) এক গবেষণায়।
আরডিআরসি বলছে, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও অবহেলার কারণে বিগত ৮৩ বছরে (১৯৪০-২০২৩ সাল) ঢাকায় ১২০ কিলোমিটার তথা ৩০৭ হেক্টর খাল হারিয়ে গেছে। এই সময়ে ৯৫টি খাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
১৮৮৮ থেকে ১৯৪০ সালের ক্যাডাস্ট্রাল জরিপগুলোকে ২০২২ সালের স্যাটেলাইট ইমেজের সাথে তুলনা করে আরডিআরসি। ওই তুলনায় ঢাকার ৭৭টি প্রধান খাল ও লেক চিহ্নিত করা হয়। এই জলাশয়গুলো মোট ৫৬৫ হেক্টর জায়গাজুড়ে ছিল। যার প্রায় ৫৫ ভাগ এখন হারিয়ে গেছে।
রাজধানীর মগবাজার থেকে বাংলামোটর-শাহবাগ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বুড়িগঙ্গায় গিয়ে মিশেছিল পরীবাগ খাল। এটি ছিল শহরের প্রাণপ্রবাহের অন্যতম একটি অংশ। এক সময় খালটি দিয়ে নৌকাও চলত। এই খালটির সঙ্গে সংযোগ ছিল কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, গুলিস্তান, মতিঝিল ও পুরান ঢাকার অন্তত ৫০টি ছোট-বড় খাল। কিন্তু বিগত কয়েক দশকে প্রায় খালই হারিয়ে গেছে। ফলে এসব এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
এক সময় মতিঝিল থেকে পল্টন ও সেগুনবাগিচা হয়ে শাহবাগের পরিবাগ খালে গিয়ে পানি প্রবাহিত হতো। তা এখন পালটে গেছে। খালটি বক্স-কালভার্টে পরিণত হয়েছে। আর পানিও এখন উল্টো দিকে প্রবাহিত করে কমলাপুর এলাকায় পাম্পের মাধ্যমে মুগদা খালে ফেলতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরীবাগ খালের মতো ঢাকার অনেক খাল ছিল, এগুলো প্রকৃতিকভাবে শহরের বৃষ্টির পানি নদীতে নিষ্কাশন করতো। তাই সেই প্রাকৃতিক জলপ্রবাহগুলো উদ্ধার করতে হবে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনে খাল খনন করতে হবে। পাশাপাশি যেসব খাল এখনো টেকে আছে সেগুলো দখলমুক্ত করে সংস্কার করতে হবে। শহরের পানি নদীগুলোতে যাওয়ার পথ সুগম করতে হবে। তা না হলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
নগরপরিকল্পনাবিদ আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘আগে ঢাকার খালগুলোর মালিক ছিল ওয়াসা, কিন্তু তারা খালগুলো তত্ত্বাবধায়নে ব্যর্থ হয়েছে। এখন খালগুলোর দায়িত্ব সিটি করপোরেশনকে দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন এমনিতেই নাগরিকদের কাছে দায়বদ্ধ। তাই খালগুলো পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের তাদের দায়িত্ববোধ দেখাতে হবে। এটি করতে পারলে নগরবাসীর জলাবদ্ধতার ভোগান্তি দূর করতে সক্ষম হবে।’
জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা স্বল্প, মাধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আশা করছি, নগরবাসীকে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি দিতে সক্ষম হবো।
ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন জানায়, রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্প মেয়াদি উদ্যোগগুলোর মধ্য রয়েছে- পাম্পের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক পানি নিষ্কাশন, কর্মীদের মাধ্যমে ড্রেনেজ লাইন ও খালগুলো পরিষ্কার করা ইত্যাদি। মধ্যম মেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- জলাবদ্ধতার চিহ্নিত হটস্পটগুলোর রোডম্যাপ করে সেগুলোর ড্রেনেজ সংস্কার ও নতুন ড্রেনেজ লাইন তৈরি করা। আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- শহরের পানি নিষ্কাশনে প্রয়োজনীয় নতুন আউটলেট তৈরি করা, খালগুলো দখলমুক্ত করে সেগুলো সংস্কার করা এবং নতুন খাল খনন করা।
সম্প্রতি সেগুনবাগিচার বক্স কালভার্ট এলাকা পরিষ্কারের কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণাকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ‘জলাবদ্ধ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে পান্থপথ, পরিবাগ, টিটিপাড়াসহ ঢাকার দক্ষিণে ইতোমধ্যে ৩৩ হট স্পষ্ট শনাক্ত করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে এসব এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করা হবে।’
প্রশাসক বলেন, ‘ঢাকার বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে নতুন করে ছয়টি পোর্টেবল পাম্প কেনা হয়েছে। জলাবদ্ধতার সংকট নিরসনে নতুন দুটি আউটলেট নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। নতুন সরকারের তত্ত্বাবধানে জনগণের দুর্ভোগগুলো প্রায়োরিটি দিয়ে সামনে দিনে নগরীর খালগুলো উদ্ধারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’
জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অন্যান্য উদ্যোগের পাশাপাশি ২৯টি খাল দখলমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। গত ৩০ জুন এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নগরীর অধিকাংশ খাল দখল হওয়ায় ভরাট হয়ে আছে, যা খনন করে জলাবদ্ধতা দূর করা হবে। প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) সারাদেশে খাল খনন করছেন, ঢাকা শহরের খালও আমরা খনন করবো।
এদিকে জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঢাকার দীর্ঘদিনের অভিশাপ জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সমন্বিতভাবে একাধিক স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে সরকার বর্তমানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।


















