Wednesday , 29 July 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুমিল্লা
  9. ক্রীড়াঙ্গন
  10. খুলনা
  11. খেলাধুলা
  12. গাইবান্ধা
  13. গাজীপুর
  14. চট্রগ্রাম
  15. চাকরি

ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেই লাইসেন্স, স্থায়ী ক্যাম্পাস, নিজস্ব জমি

প্রতিবেদক
Newsdesk
July 29, 2026 10:59 pm

অপরাধচিত্র ডেস্ক:  সরকারি কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই চলছে বেসরকারি ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ। কলেজটির নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই। এমনকি কলেজের নামে হাসপাতালের লাইসেন্সও নেই, তা সত্ত্বেও বছরের পর বছর কলেজটির একাডেমিক কার্যক্রম ও ভর্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

মেডিকেল কলেজের নীতিমালা অনুযায়ী, মেডিকেল কলেজের নিজস্ব হাসপাতাল ও স্থায়ী ক্যাম্পাস থাকা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বারডেমের মহিলা ও শিশু হাসপাতালের জায়গায় ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালার পরিপন্থি।

২০০২ সালে ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু ২৪ বছরেও তারা স্থায়ী ক্যাম্পাস করতে পারেনি। সরেজমিন দেখা গেছে, সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-২ (মহিলা ও শিশু) ভবনের প্রথম তলা থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত শিশু, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিদ্যা বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই ভবনের ৮ তলা থেকে ১২ তলা পর্যন্ত ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম চলছে। সেখানে কলেজে শিক্ষার্থী রয়েছেন ৭১৫ জন। শিক্ষার্থী অনুযায়ী ভবনের ফ্লোরস্পেস ২ লাখ ৩৬ হাজার ৩২৪ বর্গফুট প্রয়োজন। কিন্তু ফ্লোরস্পেস রয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩২৪ বর্গফুট। কলেজের একাডেমি কার্যক্রম চালানোর জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার বর্গফুট ফ্লোরস্পেসের ঘাটতি রয়েছে। অর্ধেকের বেশি ফ্লোরস্পেস ঘাটতি থাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য ঘিঞ্জি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কলেজে নেই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাবরেটরি। অন্যান্য শিক্ষা-সহায়ক সুবিধা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ আইন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন বা বিধি-বিধান অনুযায়ী, মেডিকেল কলেজের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক পূর্ণকালীন শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার, ল্যাবরেটরি, মিলনায়তন, সেমিনার কক্ষ, অফিস কক্ষ, শিক্ষার্থীদের পৃথক কমন রুম, ফ্লোর স্পেস, শিক্ষক ও টেকনিক্যাল স্টাফ, শিক্ষা উপকরণ ও যন্ত্রপাতি, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত পাঠাগার, ল্যাব, খেলাধুলা, বিনোদন ও শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কক্ষের জন্য পর্যাপ্ত স্থান ও অবকাঠামো থাকতে হবে। এর অনেক কিছুরই ঘাটতি রয়েছে ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের।

ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে দুপক্ষের বিরোধ, দখলচেষ্টা

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ২০২৩ সালে (১৮০৬ নম্বর স্মারক) বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমতিরি অনুকূলে রমনা মৌজার ২ একর জমি দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেয়। পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-২ (মহিলা ও শিশু) এর ভবনে কলেজ স্থানান্তর করা হয়। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইনে বলা আছে, ‘৫০ জন শিক্ষার্থীর আসনবিশিষ্ট একাডেমি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের নামে অন্যূন ১ একর জমি থাকতে হবে। মেডিকেল কলেজের মালিকানা নিরঙ্কুশ, নিষ্কণ্টক, অখণ্ড ও দায়মুক্ত হতে হবে। ৫০-এর অধিক আসন সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বর্ণিত কলেজের জমি, একাডেমিক কার্যক্রম ও হাসপাতালের জন্য আনুপাতিক হারে ফ্লোর স্পেস, হাসপাতালের শয্যা ও অন্যান্য অবকাঠামোর বৃদ্ধি করিতে হবে।’

ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, অর্ধেকের বেশি ফ্লোরস্পেসের ঘাটতি থাকায় শিক্ষার্থীদের ঘিঞ্জি পরিবেশে পাঠদান চলছে। মেডিকেলের শিক্ষার মান ও স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কলেজের শিক্ষার সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও পর্যাপ্ত ফ্লোরস্পেসের ব্যবস্থা জরুরি হয়েছে।

মেডিকেল শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী, একটি মেডিকেল কলেজ পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট অবকাঠামো, নিজস্ব ক্যাম্পাস, নির্ধারিত সংখ্যক শয্যাবিশিষ্ট শিক্ষণ হাসপাতাল এবং বিভিন্ন একাডেমিক সুবিধা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

জানা গেছে, দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ শীর্ষ সারির প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বলা হলেও বাস্তবে একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য যথেষ্ট জায়গা নেই। আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কলেজের তুলনায় ইব্রাহিমের ক্যাম্পাস সীমিত। কলেজটিতে রয়েছে শিক্ষকের ঘাটতি।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে বেসরকারি ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির অনুকূলে দীর্ঘমেয়াদি লিজকৃত ২ একর অকৃষি ভোগ-দখলীয় জমিতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনাপত্তি মূলে ২০০২ সালে ইব্রাহিম কলেজটির একাডেমি কার্যক্রম আরম্ভ করে। পরবর্তী সময়ে ঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-২ (মহিলা ও শিশু) এর ভবনে কলেজ স্থানান্তর করা হয়। কলেজ ক্যাম্পাস থেকে প্রশিক্ষণ হাসপাতাল দূরে অবস্থিত।

ইব্রাহিম কলেজে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে দুজন, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগে চারজন, প্যাথলজি বিভাগে একজন, মেডিসিন বিভাগে একজন এবং শিশু বিভাগে ছয়জন শিক্ষক ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে আরও বলা হয়েছে, কলেজে কোনো অডিটোরিয়াম নেই, প্রতিটি বিভাগে দুটি করে টিউটোরিয়াল রুমের ঘাটতি আছে। এ ছাড়া কলেজের নামে যে তপশিলি ব্যাংক রয়েছে সেখানেও ৬০ লাখ টাকার স্থায়ী আমনত ঘাটতি পেয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।

চিকিৎসা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে নীতিমালা লঙ্ঘনের সুযোগ থাকলে এর প্রভাব শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; ভবিষ্যতে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, একটি মেডিকেল কলেজ শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়; এখান থেকেই দেশের ভবিষ্যৎ চিকিৎসক তৈরি হয়। সেখানে পর্যাপ্ত অবকাঠামো, দক্ষ শিক্ষক ও মানসম্মত ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ছাড়া চিকিৎসক তৈরির প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব কালবেলাকে বলেন, ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সবচেয়ে বড় সমস্যা জমির। যে জমির ওপর কলেজের কার্যক্রম পরিচালিত করছে সেটা ট্রাস্টের। ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নামে জমি কিনতে পারছে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বারবার বাডাসকে (ডায়াবেটিক সমিতি) বলা হচ্ছে। সমিতি ট্রাস্টের জমিতে। সেই জমি থেকে ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ বের হতে পারছে না।

তিনি আরও বলেন, ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিজস্ব জমি ও ভবনের সংকট থাকায় হাসপাতালের নামে লাইসেন্স করতে পারছে না। দেশের শীর্ষস্থানীয় মেডিকেল কলেজগুলোর তালিকায় ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে মেডিকেল কলেজটি বন্ধ করে দেওয়া কোনো সমাধান হবে না। তবে, জমি কেনার জন্য ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের সংশ্লিষ্টদের চাপে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ে ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ এগিয়ে। ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের ঘাটতির বিষয়গুলো জেনে-শুনে সংশ্লিষ্টদের মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) আওতাধীন প্রতিষ্ঠান ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হওয়ায় বাডাসের মহাসচিব মো. সাইফ উদ্দিনের বক্তব্য জানতে কয়েকবার তার মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

 

সর্বশেষ - রাজনীতি