এ কে এম বেলাল উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি: দুর্গম এলাকায় রাতের আঁধারে অস্ত্রের মজুত ও ডাকাতির প্রস্তুতি—এমন অভিযোগে কক্সবাজারের চকরিয়ায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই দফা অভিযানে ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, দেশীয় তৈরি তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, পিস্তলের গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া অভিযানে বদরখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ছনুয়া পাড়া ও হালকাচা পাড়া এলাকায় এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লাল ব্রিজ এলাকায় অভিযানিক দল অবস্থানকালে গোপন সংবাদ আসে—বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ছনুয়া পাড়ার একটি বসতঘরে ডাকাতির উদ্দেশ্যে কয়েকজন জড়ো হয়েছে। খবর পেয়ে চকরিয়া থানার ওসি মো. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়।
তবে দুর্গম এলাকা হওয়ায় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি গিয়ে গাড়ি রেখে প্রায় দুই কিলোমিটার পায়ে হেঁটে এগোয় পুলিশ। পরে বাড়িটি ঘেরাও করা হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করে। সেখান থেকে পাঁচজনকে আটক করা সম্ভব হলেও আরও কয়েকজন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন—রাজিব ওরফে শুটার রাজিব (২৬), নমি উদ্দিন ওরফে নমি ডাকাত (৪০), জসিম উদ্দিন ওরফে জসু ডাকাত (২৬), মো. সাগর রানা ওরফে শুটার সাগর (২০) এবং জহুরা বেগম (৪৫)।
উদ্ধার হলো অস্ত্র-গুলি:
পুলিশের দাবি, তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি দুইনালা রাইফেল, একটি একনালা রাইফেল ও একটি শর্টগান উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাওয়া গেছে ৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুটি তাজা শর্টগানের কার্তুজ, দুটি কার্তুজের খোসা, ক্লিনিং রড, অস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরির সরঞ্জাম এবং ছয়টি মোবাইল ফোন।
প্রথম অভিযানে গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই বদরখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাচা পাড়া এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, এ সময় শহর বানু (৫৫) নামে একজন পালানোর চেষ্টা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বসতঘরের পেছনের পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তার ভেতর পাওয়া যায় ৭৬৭ রাউন্ড রাইফেলের গুলি।
প্রথম ও দ্বিতীয় অভিযানে উদ্ধার হওয়া গুলির হিসাব অনুযায়ী, এক রাতেই মোট ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ডাকাতির জন্য অস্ত্র ভাড়ার দাবি পুলিশের:
চকরিয়া থানা পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি তৈরি, কেনাবেচা এবং ডাকাতদের কাছে অস্ত্র ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। চকরিয়া ছাড়াও আন্তঃজেলা ডাকাতির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে বলে দাবি পুলিশের।
মাছের ঘেরসহ বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির পরিকল্পনা, সড়ক ডাকাতি এবং এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টির অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে।
পলাতকদের ধরতে অভিযান:
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অভিযোগে অস্ত্র আইনে এবং ডাকাতির প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট অপরাধে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
চকরিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, অবৈধ অস্ত্র, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


















