Saturday , 1 August 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুমিল্লা
  9. কুষ্টিয়া
  10. ক্রীড়াঙ্গন
  11. খুলনা
  12. খেলাধুলা
  13. গাইবান্ধা
  14. গাজীপুর
  15. চট্রগ্রাম

ভারতীয় নাগরিকত্ব ও বৈধ নথি থাকার পরও পুশইন: সন্তান ও স্বদেশে ফিরতে সাইদা ফকিরের আকুতি

প্রতিবেদক
Newsdesk
August 1, 2026 11:43 pm

আবদুল্লা আল মামুন সাতক্ষীরা : শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলা এবং মুসলিম হওয়ায় বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও এক ভারতীয় নারীকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে (পুশইন) দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই নারী বর্তমানে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার এক মানবিক পরিবারের আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে, এই আইনি লঙ্ঘন ও বেআইনি ‘পুশব্যাকের’ বিচার চেয়ে এবং তাকে অবিলম্বে ভারতে ফিরিয়ে নিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার ও পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন ‘বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ’ (মাসুম)।

​ভুক্তভোগী নারীর নাম সাইদা ফকির (৫০)। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর ব্লকের গোবিন্দপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তবে গত ২০ বছর ধরে স্বামী জুম্মান ফকিরের সাথে মুম্বাইতে বসবাস করে আসছিলেন।

​ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিতে গিয়ে সাইদা ফকির জানান, গত ১৯ জুলাই রাতে মুম্বাইয়ের একটি স্থানীয় বাজার থেকে কেনাকাটা করে ফেরার পথে সিআইডি পরিচয়ে ৪-৫ জনের একটি দল তাকে আটক করে। সাথে থাকা মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয় এবং তার ভারতীয় নথিপত্র দেখানোর আকুতিতে কান দেওয়া হয়নি। কোনো স্বজনের সাথে যোগাযোগের সুযোগ না দিয়ে তাকে চার দিন মুম্বাইয়ের চেম্বুর ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়। পরিবারের লোকজন পরিচয়পত্র নিয়ে উপস্থিত হলেও তা গ্রাহ্য করেনি পুলিশ।

​পরবর্তীতে তাকে বিমানে করে আসাম সীমান্তে নিয়ে ৫-৬ জনের দলে ভাগ করে জোরপূর্বক বাংলাদেশ সীমানায় ঠেলে দেওয়া হয়। সীমান্ত পার করার পর দলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ ও অসহায় অবস্থায় তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়ায় এসে পৌঁছান।

​অশ্রুসজল চোখে সাইদা ফকির বলেন, “ভারতে আমার ২৩ ও ১৪ বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। গুগলে আমাদের বসিরহাটের বাড়ির ঠিকানা খুঁজলেই বিস্তারিত পাওয়া যাবে। আমি দ্রুত আমার নিজ দেশে এবং সন্তানদের কোলে ফিরে যেতে চাই।”

​বর্তমানে সাইদা ফকির কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাদিয়ালি গ্রামের বাসিন্দা আবুল বাশার ও আরিফা দম্পতির বাড়িতে অবস্থান করছেন। আশ্রয়দানকারী আরিফা বেগম জানান, তার স্বামী চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে গিয়ে বেনাপোল সীমান্তে সাইদা ফকিরকে অত্যন্ত শোচনীয় ও অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। কাদা-মাটি মাখা, জামাকাপড় ছেঁড়া এবং ফোলা হাত-পা নিয়ে কাদতে থাকা সাইদা ফকির আশ্রয় চাইলে মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে কলারোয়ায় নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। গত পাঁচ দিন ধরে তিনি এখানেই আশ্রয়ে রয়েছেন।

​এদিকে ভারতের নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’ ও ভুক্তভোগীর পরিবার। গত ২৮ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এই রিট পিটিশনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে সাইদা ফকিরের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে তার ভোটার আইডি কার্ড, প্যান কার্ড, জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং পৈতৃক জমির দলিল পেশ করা হয়েছে। আদালত বিষয়টি পর্যালোচনায় রাখলেও এখনো চূড়ান্ত কোনো রায় প্রদান করেনি।

সর্বশেষ - রাজনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত