আনিসুর রহমান মোল্লাঃ অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে প্রতিষ্ঠা না করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি (বিআরপিএস)।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত লিখিত বক্তব্যে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “অডিট আপত্তি মানেই দুর্নীতি নয়। অডিট আপত্তি হলে অবশ্যই নথি যাচাই ও তদন্ত হতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সংবাদে সেটিকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে তুলে ধরা হলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।”
বিশেষ করে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প নিয়ে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয়ের যে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, সে বিষয়ে আবেগের বশবর্তী না হয়ে নথি ও তথ্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের দাবি জানান নেতারা। তারা উল্লেখ করেন, একটি বড় রাষ্ট্রীয় প্রকল্পে বিভিন্ন সময়ে একাধিক কর্মকর্তা প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে সামগ্রিক দায় কোনো একক ব্যক্তির ওপর না চাপিয়ে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
রেলওয়ের বর্তমান মহাপরিচালক প্রসঙ্গে বিআরপিএস-এর সভাপতি বলেন, “তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু তদন্ত ছাড়াই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্রহননের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে সৎ কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করার সাহস হারাবেন।”
সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, তারা ব্যক্তির সুরক্ষায় নয়, বরং একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তাদের মূল দাবি—”অপপ্রচার নয় প্রমাণ চাই; অভিযোগ নয় তদন্ত চাই; দুর্নীতি হলে শাস্তি চাই, আর নির্দোষ হলে ন্যায়বিচার চাই।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কলামিস্ট আনোয়ারুল হক, বাংলাদেশ রেলওয়ে কারিগর পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস. কে. বারী এবং বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ কুদরত-ই-খোদা তোতন।

















