Thursday , 10 September 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি ও প্রকৃতি
  12. ক্রীড়াঙ্গন
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. গাইবান্ধা

জামিন আদেশ জালিয়াতিতে ৩০ জনের সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট: বিপন্ন বিচার বিভাগ

প্রতিবেদক
Newsdesk
September 10, 2026 1:27 am

অপরাধচিত্র রিপোর্ট: দেশের সর্বোচ্চ আদালত ঘিরে সক্রিয় রয়েছে জামিন-আদেশ জালিয়াতির এক সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। আদালতের আদেশ পরিবর্তন, ভুয়া নথি সংযুক্ত করা, তথ্য গোপন করে জামিন নেওয়া, জাল আদেশ তৈরি ও ভিন্ন মামলার নথি ব্যবহার করে আসামি কারামুক্ত করার মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। এর ফলে দাগি আসামিরা মুক্ত হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং বিচার বিভাগের প্রতি জন আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

​বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধস্তন আদালত থেকে উচ্চ আদালত এবং কারাগার পর্যন্ত বিস্তৃত এই চক্রে অসাধু আদালত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী (মুহুরি), তদবিরকারক ও কম্পিউটার-ফটোকপি দোকানের কর্মচারীরা জড়িত। জামিন জালিয়াতির ২৭টি মামলা তদন্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ৩০ জনের বেশি ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পেয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছে।

তদন্তে উঠে আসা সিআইডির ২৭ মামলার বিস্তারিত বিবরণ:

​সিআইডি জানায়, তাদের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ বিভাগ ১৮টি এবং সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগ ৯টি মামলার তদন্ত পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগে তদন্ত হওয়া উল্লেখযোগ্য মামলাগুলো হলো—​২০১৭ সালের মামলা: ৮ আগস্টের শাহবাগ থানা মামলা (নং-১৩) ও ২০ সেপ্টেম্বরের মামলা (নং-২৬)।​২০১৫ সালের মামলা: ১৩ আগস্টের মামলা (নং-২২), ২০ মে-র মামলা (নং-২১) এবং ৩ ডিসেম্বরের মামলা (নং-২)।​২০১৪ সালের মামলা: ৯ ডিসেম্বর, ১৭ জানুয়ারি ও ১০ ফেব্রুয়ারি দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলা।

জালিয়াতির কৌশল ও চাঞ্চল্যকর কিছু ঘটনা:

গোপালগঞ্জের ইয়াবা মামলা (শাহবাগ থানা মামলা, ১৬ নভেম্বর ২০২০): ২০১৯ সালের ১৪ আগস্ট কাশিয়ানীতে সফিউল্লাহ খানের কাছ থেকে ২,২০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হলেও উচ্চ আদালতে নথিতে মাত্র ২০ পিস দেখিয়ে ২০২০ সালে জামিন নেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন পাটোয়ারীর দায়ের করা এ মামলায় সিআইডির তৎকালীন পরিদর্শক সুলতান হোসেন ২০২১ সালের ৩১ আগস্ট ১৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন। এতে সফিউল্লাহ, জালিয়াতির মাধ্যম মোকলেস মোল্লা, ওবায়দুর রহমান মোল্লা, আলী ফকির, দাউদ মোল্লা, অগস্তা বাইন, জাহিদুল ইসলাম এবং ৩ আইনজীবীর নাম উঠে আসে।​সিলেটের জকিগঞ্জের মাদক মামলা: আবদুস সালাম নামের আসামির কাছ থেকে ৩,২০০ পিস ইয়াবা (মামলার মোট ৭,৮০০ পিস) জব্দ করা হলেও নথিতে তা ৩২০ পিস দেখিয়ে জামিনের চেষ্টা করা হয়। ঘটনায় সালাম, তার শ্বশুর ইমাম উদ্দীন ও সিলেট আদালতের নকল বিভাগের কর্মীদের বিরুদ্ধে সিআইডি অভিযোগপত্র দেয়।​রাজবাড়ীর অস্ত্র মামলা (৩০ এপ্রিল ২০১৯ থেকে তদন্ত): প্রকৃত আসামি ইয়ার আলীকে বাঁচাতে ‘কালা শাহীন’ নামে এক কাল্পনিক আসামির নাম দিয়ে জাল কাগজ তৈরি করা হয়। সিআইডির এসআই জাকির হোসেন ২০২১ সালের ১০ মার্চ আইনজীবী মুসরোজ ঝর্ণা সাথী, উচ্চ আদালতের মুহুরি হারুন অর রশীদ, মাজেদুল ইসলাম, রংপুরের মুহুরি দেলোয়ার হোসেন (নুর আলম), শামীম রেজাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন।​

অন্যান্য কৌশল: সম্প্রতি গাইবান্ধার এক মামলায় চার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু সাজাতে জাল জন্মসনদ ব্যবহারের অভিযোগে আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপন, সহকারী হাসান আলী ও জিআরও আবদুস সবুরের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দেন আদালত। এছাড়া ২০১৮ সালে হাই কোর্টের তদন্ত কমিটি ফৌজদারি বিবিধ শাখার ৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চিহ্নিত করে, যারা ক্ষমতার বাইরে গিয়ে তদবির চালাতেন।

সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ:কেএনএফ মামলা কারসাজি: কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট সংক্রান্ত মামলায় শুনানির তথ্যের সঙ্গে লিখিত আদেশের অসংগতি পাওয়ায় এক বেঞ্চ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং ফৌজদারি ও বিভাগীয় মামলা করা হয়।​ইটভাটার রিট জালিয়াতি: কেবল রুল জারি হওয়া আদেশে অবৈধভাবে ‘ইট উৎপাদন অব্যাহত থাকবে’ বাক্য যুক্ত করে ৩ পার্বত্য জেলার ৫১টি ইটভাটা চালু রাখা হয়। আদেশে অতিরিক্ত ১৯ জনের নাম ও ভুয়া বাদী যুক্ত করা হলে দ্বৈত বেঞ্চ জালিয়াতি ধরে ফেলে মামলার নির্দেশ দেন।

বিশেষজ্ঞ ও দায়িত্বশীলদের বক্তব্য:

​অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট একটি পবিত্র প্রতিষ্ঠান। জামিন জালিয়াতি, টেন্ডার কারসাজি বা রায় জালিয়াতির মতো ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে অপরাধ থামবে না।”

​সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী জানান, “মামলাগুলোর সার্বক্ষণিক তদারকিতে সীমাবদ্ধতা থাকলেও বর্তমানে নিয়মিত মনিটরিং, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও নথি ব্যবস্থাপনা নিরাপদ করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

সর্বশেষ - অপরাধচিত্র বিশেষ