রাজেন্দ্রপুরে আলমগীরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ; ২৫ লাখ টাকা দিয়েও জমি না পাওয়ার দাবি বাদলের!
আনিসুর রহমান মোল্লা: গাজীপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর ও রাজাবাড়ি এলাকায় জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (৫০)-এর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জমি বিক্রি কিংবা জমি কিনে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও অনেককে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এমনকি নেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা আলমগীর হোসেন নয়নপুর এলাকার ছাদেক আলী খানের ছেলে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অতীতে তিনি রাজাবাড়ি শ্রমিকলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার ছেলে কাননও রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন। তবে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা ও আশপাশের এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে আলমগীরের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন ও জমি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের কথা জানা গেছে।

একাধিক ব্যক্তির টাকা পাওনার দাবি:
স্থানীয় মোহাম্মদ তাহের হোসেন, মোহাম্মদ মজনু ও মো. সুলতানসহ কয়েকজন দাবি করেছেন, আলমগীর হোসেনের কাছে তাদেরও টাকা পাওনা রয়েছে।
মোহাম্মদ তাহের হোসেনের অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জমির পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সংগ্রহ করে তা বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হতো। এ প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রেও গড়িমসি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
মোহাম্মদ মজনু ও মো. সুলতানের দাবি, তারাও আলমগীরের কাছে টাকা পাওনা রয়েছেন। তাদের ভাষ্য, স্থানীয় আরও কয়েকজন দোকানদার ও সাধারণ মানুষ আলমগীরের কাছে টাকা পাওনা থাকার কথা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, এমন পাওনাদারের সংখ্যা ২০ জনেরও বেশি।
২৫ লাখ টাকা দিয়েও জমি না পাওয়ার অভিযোগ বাদলের
অভিযোগগুলোর মধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের দাবি করেছেন বাদল মিয়া (৪২)। তার অভিযোগ, জমি কিনে দেওয়ার কথা বলে আলমগীর হোসেন বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ২৫ লাখ টাকা নেন।
বাদলের দাবি, টাকা দেওয়ার পরও তার নামে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি। বরং যে জমির জন্য অর্থ নেওয়া হয়েছিল, সেটি পরবর্তীতে আলমগীর নিজের নামে করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাদল বলেন, জমির টাকা জোগাড় করতে তাকে স্ত্রীর গহনা বন্ধক রাখতে হয়েছে। পাশাপাশি সুদের ওপরও টাকা নিতে হয়েছে। জমি না পাওয়া এবং টাকা ফেরত না পাওয়ায় বর্তমানে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে দাবি করেন।
তার আরও অভিযোগ, পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয় এবং হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে।
পাওনা টাকা চাওয়ার পর চাঁদাবাজির মামলা—বাদলের অভিযোগ
বাদল মিয়ার দাবি, পাওনা ২৫ লাখ টাকা ফেরত চাওয়ার পর তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে জয়দেবপুর থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে।
বাদলের পক্ষ থেকে মামলার কপি ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগপত্র প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাদল আরও দাবি করেন, ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট রাতে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে তার কাছে ভিডিও সাক্ষাৎকার ও কিছু নথিপত্র রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
পাওনাদারদের চাপ, এলাকায় অনুপস্থিত আলমগীর—দাবি ভুক্তভোগীদের
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বর্তমানে আলমগীর হোসেন নিয়মিত রাজেন্দ্রপুর এলাকায় অবস্থান করছেন না। পাওনাদারদের চাপের কারণে তিনি রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্টসংলগ্ন এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন বলে তাদের দাবি।
তবে তার বর্তমান অবস্থান এবং কেন তিনি এলাকায় নিয়মিত থাকছেন না—এ বিষয়ে আলমগীরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রকৃত ঘটনা তদন্তের দাবি:
গঅভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
তাদের দাবি, কার কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, কোন জমির বিপরীতে কী ধরনের চুক্তি বা লেনদেন হয়েছে, জমি হস্তান্তর বা রেজিস্ট্রি কেন হয়নি এবং কোনো অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয় নথিপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করা হোক।
বাদল মিয়ার পক্ষ থেকে গাজীপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তার দাবি, অভিযোগটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
আলমগীরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগগুলোর বিষয়ে আলমগীর হোসেনের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নী
















