অর্থ জমার পর ১ হাজার ৪০০ টাকার তথ্য দেওয়ার প্রস্তাব; হিসাব নির্ধারণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যেও অসংগতি
বিশেষ প্রতিনিধি:সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য চেয়ে এবার তথ্যের মূল্য নির্ধারণ ও সরবরাহের প্রক্রিয়া নিয়েই গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়েছে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা প্রশাসন। তথ্য অধিকার আইনে আবেদন, নির্ধারিত সময় পার, তাগিদপত্র ও আপিলের পর একজন সাংবাদিককে ৫ হাজার ২০৫ পৃষ্ঠার তথ্যের মূল্য বাবদ ১০ হাজার ৪১০ টাকা জমা দেওয়ার চিঠি দেওয়া হয়। সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমাও দেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ, অর্থ পরিশোধের পর চাহিদা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দিয়ে মাত্র ১ হাজার ৪০০ টাকার সমপরিমাণ নথি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। তথ্যের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায়ের বক্তব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্যেও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন ও অস্পষ্টতা। ৫ হাজার ২০৫ পৃষ্ঠার হিসাব কে তৈরি করেছেন, কীসের ভিত্তিতে অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে, আর অর্থ জমা নেওয়ার পর তথ্যের পরিমাণ কমে গেল কেন—এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ আবেদনকারী সাংবাদিক জাহিদ হাসানের।
ঘটনাটি শুধু একজন সাংবাদিকের তথ্যপ্রাপ্তির জটিলতা নয়; সরকারি দপ্তরে তথ্যের মূল্য নির্ধারণ, নাগরিকের অধিকার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দুই অর্থবছরের প্রকল্পের তথ্য চেয়েই জটিলতার শুরু
আবেদনকারীর সরবরাহ করা নথি অনুযায়ী, ধর্মপাশা উপজেলার ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় বিশেষ ও সাধারণ টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির তালিকা এবং প্রাক্কলনসংক্রান্ত তথ্য চেয়ে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর আওতায় আবেদন করেন সাংবাদিক জাহিদ হাসান।
৫ জুলাই আবেদনটি গ্রহণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তথ্য না পাওয়ায় ১১ আগস্ট সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ও ইউএনওর কাছে তাগিদপত্র দেন তিনি। এরপরও তথ্য না পেয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করেন।
আপিল মামলা নম্বর ০২/২০২৬-এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য অভিযোগ শাখা থেকে ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ০৫.৪৬.৯০০০.০০০.০১৮.০১.০০১১.১৯.২৪৩ নম্বর স্মারকে চিঠি দেওয়া হয়। এতে আবেদনকারীর চাহিদা অনুযায়ী আইনানুগভাবে তথ্য সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পাশাপাশি পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য সরবরাহের জন্য ধর্মপাশার দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।
১০ হাজার ৪১০ টাকা নির্ধারণ, সরকারি কোষাগারে জমা

এরপর ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ০৫.৪৬.৯০৩২.০০১.০১.০৬০.২২-৮৬২ নম্বর স্মারকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে তথ্য অধিকার বিধিমালা অনুযায়ী ফটোকপি বাবদ প্রতি পৃষ্ঠা ২ টাকা হারে মোট ১০ হাজার ৪১০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাংক চালানের মাধ্যমে অর্থ জমা দিয়ে চালানের মূল কপি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে দাখিল করতে বলা হয়। সেই অনুযায়ী ৬ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের নেত্রকোনা শাখার মাধ্যমে ১০ হাজার ৪১০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন জাহিদ হাসান। ২৬২৭-০০২১৮৯৯৪৯৪১ নম্বর ব্যাংক চালানের অনুলিপিও সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
প্রতি পৃষ্ঠা ২ টাকা হিসাবে ১০ হাজার ৪১০ টাকার অর্থ দাঁড়ায় ৫ হাজার ২০৫ পৃষ্ঠা। অর্থাৎ, আবেদনকারীর কাছে দেওয়া চিঠিতে তথ্যের পরিমাণ ও মূল্য নির্ধারণের একটি নির্দিষ্ট হিসাব ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই হিসাবের সঙ্গে তথ্য সরবরাহের প্রস্তাবের পার্থক্য দেখা দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—মূল হিসাবটি কি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল?
২৭ অক্টোবর কার্যালয়ে গিয়ে নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি
গত ২৭ অক্টোবর চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করতে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান সাংবাদিক জাহিদ হাসান। তাঁর অভিযোগ, সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অফিস সহকারী রতন সরকারকে মাত্র ১ হাজার ৪০০ টাকার সমপরিমাণ তথ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করতে বলেন।
আবেদনকারীর দাবি, উপস্থিত সাংবাদিক, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সামনেই এ নির্দেশ দেওয়া হয়। তখন তিনি প্রশ্ন তোলেন—১০ হাজার ৪১০ টাকার তথ্যের মূল্য নির্ধারণ করে লিখিত চিঠির মাধ্যমে অর্থ জমা নেওয়া হলেও এখন কেন মাত্র ১ হাজার ৪০০ টাকার তথ্য দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে? বাকি অর্থের হিসাব কী?
জাহিদ হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, জবাবে ইউএনও জানান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিষয়টি সমন্বয় করে দেবেন। তবে আবেদনকারী জানান, অর্থ ফেরত বা সমন্বয়ের বিষয়টি হলে তা সরকারি কোষাগারের বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়ায় এবং লিখিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, তথ্যের মূল্য নির্ধারণের সময় যে পরিমাণ নথির হিসাব দেওয়া হয়েছিল, তা কি পরে পরিবর্তন করা হয়েছে? পরিবর্তন করা হলে তার কারণ কী? আর সেই পরিবর্তনের বিষয়ে আবেদনকারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল কি না?
ইউএনও বললেন ৫ হাজার ২০৫ পৃষ্ঠার হিসাবের কথা
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় থেকে ৫ হাজার ২০৫ পৃষ্ঠার হিসাব করে আবেদনকারীকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেই হিসাবের ভিত্তিতেই আবেদনকারী অর্থ জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
ইউএনওর এই বক্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—৫ হাজার ২০৫ পৃষ্ঠার হিসাবটি কে প্রস্তুত করেছিলেন? কোন কোন প্রকল্পের কত পৃষ্ঠা নথি ধরে এই হিসাব করা হয়েছে? হিসাবটি কি আবেদনকারীর চাহিদাপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল? আর ওই হিসাবের ভিত্তিতে অর্থ গ্রহণের পর তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে ভিন্ন পরিমাণের প্রস্তাব কেন দেওয়া হলো?
এমনকি ৫ হাজার ২০৫ পৃষ্ঠার হিসাবের নথিপত্র এখনো আবেদনকারীর হাতে পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছেছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন
এ সময় উপস্থিত ধর্মপাশা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, আবেদনকারীর চাহিদা অনুযায়ী তথ্যের জন্য এত টাকা নির্ধারণের বিষয়টি তাঁর কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় থেকে কাগজ সরবরাহ করে এভাবে তথ্যের মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
স্থানীয় জনতা, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি আরও বলেন, তথ্য সরবরাহের মূল্য নির্ধারণ এবং তথ্য দেওয়া-নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তথ্য সরবরাহে অপারগতার কোনো কারণও নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তাহলে প্রশ্ন উঠছে, ইউএনওর বক্তব্য অনুযায়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের হিসাবের ভিত্তিতে তথ্যের মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সেই হিসাব সম্পর্কে অবগত নন কেন? ৫ হাজার ২০৫ পৃষ্ঠার হিসাবটি কোন পর্যায়ে, কার মাধ্যমে এবং কীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল?
তথ্য অধিকার আইন কী বলছে?

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৪ ধারায় প্রত্যেক নাগরিকের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আইনের ৯ ধারায় তথ্য সরবরাহের সময়সীমা এবং তথ্যের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
আইনের ৯(৭) ধারায় বলা হয়েছে, তথ্যের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে তথ্য প্রদানের প্রকৃত ব্যয়—যেমন মুদ্রিত মূল্য, ইলেকট্রনিক ফরম্যাটের মূল্য কিংবা ফটোকপি ও প্রিন্টের ব্যয়—এর বেশি মূল্য নির্ধারণ করা যাবে না। অন্যদিকে, আইনের ১৩ ধারায় তথ্যের অযৌক্তিক মূল্য দাবি করা হলে, অসম্পূর্ণ তথ্য সরবরাহ করা হলে কিংবা তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারসংক্রান্ত অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে তথ্য কমিশনে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় ১০ হাজার ৪১০ টাকা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা এবং অর্থের বিপরীতে কত পৃষ্ঠা তথ্য সরবরাহ করা হবে, তা স্পষ্ট করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ যাচাইয়ের দাবি
জাহিদ হাসান যে তথ্য চেয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে ধর্মপাশা উপজেলার দুই অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ও প্রাক্কলনসংক্রান্ত নথি। এসব তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের অনুমোদিত বরাদ্দ, পরিকল্পিত ব্যয় এবং বাস্তবায়নের প্রকৃত অবস্থা পর্যালোচনা করা সম্ভব।
তথ্য সরবরাহের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে অসংগতি ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগের পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রকল্পে অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়মের অভিযোগের অভিযোগের বিষয়টি যাচাই বাচাই করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বরাদ্দপত্র, বিল-ভাউচার, বাস্তবায়ন প্রতিবেদন, পরিমাপ বই এবং সরেজমিন তদন্ত প্রয়োজন।
আবেদনকারী সাংবাদিকের দাবি, তথ্য পাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর প্রকৃত অবস্থা যাচাই করতে চান। তাঁর মতে, তথ্যপ্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় অস্পষ্টতা থাকলে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এখন যে প্রশ্নগুলোর জবাব প্রয়োজন
ধর্মপাশা উপজেলা প্রশাসনের কাছে কয়েকটি প্রশ্নের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত—
৫ হাজার ২০৫ পৃষ্ঠার হিসাবটি কে এবং কীভাবে প্রস্তুত করেছিলেন? কোন কোন প্রকল্প ও নথির ভিত্তিতে ১০ হাজার ৪১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল?অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা নেওয়ার পর মাত্র ১ হাজার ৪০০ টাকার তথ্য সরবরাহের প্রস্তাব কেন দেওয়া হলো?
তথ্যের পরিমাণ বা মূল্য পরিবর্তন হয়ে থাকলে তার লিখিত আদেশ ও হিসাব কোথায়? আবেদনকারীকে তাঁর চাহিদা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরবরাহ করা হবে কি না?নঅতিরিক্ত অর্থের বিষয়টি কীভাবে এবং কোন বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা হবে?
নথিই দেবে প্রকৃত উত্তর
১০ হাজার ৪১০ টাকা জমা দেওয়ার ব্যাংক চালান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত তথ্যের মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত চিঠি, জেলা প্রশাসকের বরাবরে আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশনা এবং ২৭ অক্টোবরের ঘটনাবিবরণী—সব মিলিয়ে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এখন প্রয়োজন তথ্যের মূল্য নির্ধারণের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ, সরবরাহ করা নথির প্রকৃত পরিমাণ নিশ্চিত করা এবং আবেদনকারীর তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার বাস্তবায়ন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ও বক্তব্য প্রকাশ্যে আসা জরুরি।
কারণ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য চাওয়া কোনো ব্যক্তিগত অনুগ্রহ নয়; এটি আইনসম্মত অধিকার। আর সেই অধিকার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় যদি হিসাবের অসংগতি ও অস্পষ্টতা দেখা দেয়, তবে তার জবাবও হওয়া উচিত নথিভিত্তিক, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল। এসব বিষয় ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তার বক্তব্য জানতে তার সরকারি নাম্বারে একাদিক বার কল করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এখন দেখার বিষয়, ধর্মপাশা উপজেলা প্রশাসন ৫ হাজার ২০৫ পৃষ্ঠার হিসাব, ১০ হাজার ৪১০ টাকা নির্ধারণ এবং পরবর্তী সময়ে ১ হাজার ৪০০ টাকার তথ্য দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেয়।


















