চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা,মামলায় গ্রেপ্তার কনটেন্ট ক্রিয়েটর
আবদুল্লাহ আল মামুন, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা জিসান বাবুলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁকে আদালতে পাঠিয়ে কারাগারে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগসাজশে বিভিন্ন স্থানে চুক্তি ও অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ছাত্রদল নেতা জিসান বাবুল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ১ নভেম্বর দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেব আলী সাতক্ষীরা সদর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ও মাঝ সখিপুর গ্রামের মৃত দাউদ গাজীর ছেলে জিসান বাবুলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দ্বিতীয় এবং চেয়ারম্যানের সাবেক স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস (মৌসুমি)কে তৃতীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় আরও দুই থেকে তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
অডিও রেকর্ডে অর্থ দাবির কথোপকথন
ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান সাহেব আলীর কাছ থেকে পাওয়া জিসান বাবুলের কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডে অর্থ দাবির বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
একটি অডিওতে জিসান বাবুলকে বলতে শোনা যায়, “ভাই, সে এক কথায় এক লাখ টাকা চাচ্ছে। এবার কী বলব বলেন? সে তো ৫০ হাজার টাকার কথাও শুনবে না।”
অন্য একটি অডিওতে চেয়ারম্যান সাহেব আলীকে ভিডিওটি মুছে দেওয়ার অনুরোধ জানাতে শোনা যায়। জবাবে বাবুল বলেন, “সব সমাধান হোক, আমি ডিলিট করে দিচ্ছি। সমস্যা নেই। যে অ্যামাউন্ট চাচ্ছি, সেই অ্যামাউন্টে ডিল ফাইনাল করতে হবে।”
একই কথোপকথনে বাবুল আরও বলেন, “আপনি ৫০ হাজার টাকা দেন, আমি হাত-পা ধরে হলেও আপনার ভিডিওর বিষয়টি মিটমাট করে নেব।”
অডিও রেকর্ডগুলোতে অর্থের বিনিময়ে ভিডিও মুছে ফেলা এবং বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাবের কথোপকথন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান। তবে এসব অডিওর সত্যতা ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
দলীয় পরিচয়ে অপকর্ম বরদাশত নয়: উপজেলা ছাত্রদল
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা জিসান বাবুলের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেন। তবে ‘ঝামেলায় আছেন’ জানিয়ে কথা না বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান ফরহাদ বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কেউ অনৈতিক বা অন্যায় কাজে জড়িত থাকলে দল তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না। দলের নাম ব্যবহার করে কোনো অপকর্ম মেনে নেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গ্রেপ্তার এক, অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলার আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠিয়ে কারাগারে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ব্যক্তিগত ভিডিওকে হাতিয়ার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।














