Saturday , 25 July 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কুমিল্লা
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. খুলনা
  9. খেলাধুলা
  10. গাইবান্ধা
  11. গাজীপুর
  12. চট্রগ্রাম
  13. চুয়াডাঙ্গা
  14. জাতীয়
  15. জামালপুর

বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকেই আসতে পারেন নতুন রাষ্ট্রপতি

প্রতিবেদক
Newsdesk
July 25, 2026 1:04 pm

অপরাধচিত্র ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর এখন সবার দৃষ্টি পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, সেদিকে। সরকার গঠনের পর থেকেই এ পদে বিএনপির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও গত দুই দিনে সম্ভাব্যদের তালিকায় নতুন কয়েকটি নাম যুক্ত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর ভাষ্য, সম্ভাব্যদের তালিকা এখন অনেকটাই সংক্ষিপ্ত।

সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন—এমন একটি সূত্র জানিয়েছে, বাইরে থেকে নয়, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকেই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়নি। ওই সূত্র জানিয়েছে, সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে অত্যন্ত সন্তর্পণে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের সময় থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলের সম্ভাব্য অনেকের নাম আলোচনায় আসে। এর মধ্যে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্যতম। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় এসেছে। অতি সম্প্রতি এ আলোচনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নামও যুক্ত হয়। একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নামও আলোচনায় আসে।

বিএনপি দলীয় ও এর বাইরের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, শারীরিক প্রতিকূলতাসহ নানা বিবেচনায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতির আলোচনায় পিছিয়ে পড়েছেন। গত দুই দিনে সেখানে জোরালো হয়ে আলোচনায় এসেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের নাম। সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি পদে নতুন নতুন মুখের আলোচনার মধ্যে নানা বিবেচনায় দলের ভেতরের একটা অংশ মির্জা ফখরুল ইসলামকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার ব্যাপারে সক্রিয় রয়েছে।

একই সঙ্গে রাজনীতির বাইরে মির্জা ফখরুল ইসলামের শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকে তাঁকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে যোগ্য মনে করেন। তাঁদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে মনোভাব ব্যক্ত করে লিখেছেনও। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলামকে ‘সেরা প্রার্থী’ বলে মন্তব্য করেন। ‘বাংলাদেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন?’ শিরোনামে গতকাল তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। তাতে তিনি লেখেন, ‘আমার মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ পদে যোগ্য ব্যক্তি। শেখ হাসিনার দুঃশাসনকালে তিনি মহাসচিব হিসেবে দলের হাল ধরেছেন, বহুভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে তিনি মডারেট, সদাচারী ও সুবক্তা হিসেবে অগ্রগণ্য।’

অধ্যাপক আসিফ নজরুলের মতে, ‘বিএনপিতে উপযুক্ত আরও কেউ কেউ আছেন। তবে আমার মতে, সব দিক বিবেচনায় মির্জা ফখরুল এগিয়ে থাকবেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হলে তিনি সম্ভবত সেরা প্রার্থী।’

এর আগে ব্র্যাক, বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ এক ফেসবুক পোস্টে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেন অন্যদের চেয়ে যোগ্যতর ব্যক্তি, সেটি তুলে ধরেন।

২৪  জুলাই শুক্রবার মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সাংবিধানিক নিয়মে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলের মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচিত হওয়ার কথা। গত কয়েক দিনে বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সব মহলে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অথবা দলীয় সিদ্ধান্ত প্রকাশ না করা পর্যন্ত এ আলোচনা চলবে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে এখনো সময় রয়েছে। রাজনীতির বাস্তবতায় পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। ফলে আজ যাঁরা আলোচনায় এগিয়ে আছেন, সময়ের ব্যবধানে তাঁদের অবস্থান পরিবর্তিতও হতে পারে।

সর্বশেষ - রাজনীতি